ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাহরির গুরুত্ব

সাহরির গুরুত্ব ও উপকারিতা

রমজান মাসের সিয়াম সাধনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘সাহরি’। ‘সাহর’ শব্দ থেকে আগত এই শব্দটির অর্থ হলো শেষ রাত বা ভোররাত। এটি কেবল দিনের ক্ষুধা মেটানোর প্রস্তুতি নয়, বরং ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে সাহরির সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে একে বৈধতা ও গুরুত্ব দান করেছেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সাহরি খাওয়া উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক বিশেষ সম্মান ও বরকতময় বৈশিষ্ট্য।

 

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরির ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, “তোমরা সাহরি খাও; কেননা সাহরিতে রয়েছে বরকত” (বুখারি ও মুসলিম)। এই বরকত কেবল দৈহিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সময়ের বরকত, ইবাদতের বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম। অন্য এক হাদিসে এসেছে, মুসলিম ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে প্রধান পার্থক্যই হলো সাহরি গ্রহণ করা।

 

এমনকি এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও রাসুল (সা.) সাহরি করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে খাবারের পরিমাণের চেয়ে সুন্নাহ পালনই এখানে মুখ্য।

 

 

সাহরির সময়ের আরেকটি বিশেষ দিক হলো—এটি দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মুমিনরা শেষ রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন একজন রোজাদার সাহরির জন্য জাগ্রত হন, তখন তিনি আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বিশেষ রহমত ও দোয়ার ভাগীদার হন। এছাড়া স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও সাহরির উপকারিতা অপরিসীম।

 

 

এটি দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে শরীরকে শক্তি জোগায় এবং পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা থেকে রক্ষা করে। তাই সাহরি বর্জন করা কেবল সুন্নতের বরকত থেকেই বঞ্চিত হওয়া নয়, বরং তা শারীরিক ক্লান্তিরও কারণ হতে পারে। আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের এই বিশেষ সুযোগকে অবহেলা না করে নিয়মিত সাহরি গ্রহণ করাই প্রতিটি মুমিনের একান্ত কর্তব্য।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাহরির গুরুত্ব

সাহরির গুরুত্ব ও উপকারিতা

Update Time : ০৭:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসের সিয়াম সাধনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘সাহরি’। ‘সাহর’ শব্দ থেকে আগত এই শব্দটির অর্থ হলো শেষ রাত বা ভোররাত। এটি কেবল দিনের ক্ষুধা মেটানোর প্রস্তুতি নয়, বরং ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে সাহরির সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে একে বৈধতা ও গুরুত্ব দান করেছেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সাহরি খাওয়া উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক বিশেষ সম্মান ও বরকতময় বৈশিষ্ট্য।

 

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরির ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, “তোমরা সাহরি খাও; কেননা সাহরিতে রয়েছে বরকত” (বুখারি ও মুসলিম)। এই বরকত কেবল দৈহিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সময়ের বরকত, ইবাদতের বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম। অন্য এক হাদিসে এসেছে, মুসলিম ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে প্রধান পার্থক্যই হলো সাহরি গ্রহণ করা।

 

এমনকি এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও রাসুল (সা.) সাহরি করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে খাবারের পরিমাণের চেয়ে সুন্নাহ পালনই এখানে মুখ্য।

 

 

সাহরির সময়ের আরেকটি বিশেষ দিক হলো—এটি দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মুমিনরা শেষ রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন একজন রোজাদার সাহরির জন্য জাগ্রত হন, তখন তিনি আল্লাহ ও ফেরেশতাদের বিশেষ রহমত ও দোয়ার ভাগীদার হন। এছাড়া স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও সাহরির উপকারিতা অপরিসীম।

 

 

এটি দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে শরীরকে শক্তি জোগায় এবং পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা থেকে রক্ষা করে। তাই সাহরি বর্জন করা কেবল সুন্নতের বরকত থেকেই বঞ্চিত হওয়া নয়, বরং তা শারীরিক ক্লান্তিরও কারণ হতে পারে। আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের এই বিশেষ সুযোগকে অবহেলা না করে নিয়মিত সাহরি গ্রহণ করাই প্রতিটি মুমিনের একান্ত কর্তব্য।