চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস।
১ হাজার ৪০০ বছরেরও বেশি সময় আগে এই মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআনের প্রথম বাণী অবতীর্ণ হয়েছিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রোজার সময়সীমায় ভিন্নতা দেখা যায়, যা সাধারণত ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে হয়ে থাকে। ইসলামী হিজরি বর্ষপঞ্জি চান্দ্রনির্ভর হওয়ায় প্রতি বছর রমজান মাস আগের বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে শুরু হয়। এই গাণিতিক হিসেবে ২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রমজান মাস পালিত হওয়ার এক বিরল প্রেক্ষাপট তৈরি হতে যাচ্ছে।
উত্তর গোলার্ধে এখন শীতকাল হওয়ায় এ বছর বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম অপেক্ষাকৃত কম সময় রোজা রাখার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রথম রোজায় সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ১৩ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে; অর্থাৎ প্রথম রোজা হবে ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিটের।
অন্যদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য রোজার সময় হবে তুলনামূলক দীর্ঘ, যা প্রথম দিকে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাসজুড়ে উত্তর গোলার্ধে রোজার সময় ধীরে ধীরে বাড়বে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে কমতে থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান শহরের সূচি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার ও দুবাইয়ে প্রথম দিনে রোজার সময় হবে ১২ ঘণ্টা ৪৩ থেকে ৪৪ মিনিট। ইউরোপের জুরিখ বা রোমে রোজার শুরুটা হবে ১২ ঘণ্টা ১১ মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টা ১৯ মিনিটের মধ্যে।
এই মাসে মুসলিমরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ধূমপান থেকে বিরত থেকে ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীরুতা অর্জনে মগ্ন থাকবেন। ভাষার ভিন্নতা থাকলেও বিশ্বজুড়ে ‘রমজান কারিম’ ও ‘রমজান মোবারক’ ধ্বনিতে বরকতময় এই মাসকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

আল–জাজিরা 
















