ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মদিনায় হিজরতের পর যেভাবে ফরজ হলো রমজানের রোজা।

প্রাক-ইসলামিক যুগ থেকে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষ: রোজার বিবর্তন

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম হলো রোজা। তবে বর্তমান বিশ্বে যেভাবে রমজান মাসে এক মাসব্যাপী রোজা রাখা হয়, ইসলামের শুরুর দিকে এই নিয়মটি এমন ছিল না।

 

ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, মক্কা ও মদিনায় ইসলাম প্রচারের আগে থেকেই রোজা রাখার রীতি প্রচলিত ছিল। আরবের কুরাইশ বংশের লোকেরা ইসলাম পূর্ব যুগেও আশুরার দিনে রোজা পালন করত। ইসলামের প্রাথমিক যুগে নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজে মাঝে মাঝে রোজা রাখলেও তখন সাধারণ বিশ্বাসী বা সাহাবীদের জন্য ৩০টি রোজা রাখা বাধ্যতামূলক বা ফরজ ছিল না।

 

 

ইসলামের ইতিহাসে রোজা পূর্ণাঙ্গ এবং বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে। এর আগে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের নবী অনুসারীদের নিয়ে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, যা মুসলিম বিশ্বের হিজরি ক্যালেন্ডারের সূচনা হিসেবে স্বীকৃত। হিজরতের ঠিক দুই বছর পর মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রমজান মাসের রোজা ফরজ করার নির্দেশ আসে। এরপর থেকেই সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ অপরিবর্তিত রূপে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান মাসে রোজা পালন করে আসছে।

 

 

উল্লেখ্য যে, উপবাস বা পানাহার থেকে বিরত থাকার এই আধ্যাত্মিক চর্চা কেবল ইসলামেই সীমাবদ্ধ নয়। ইহুদি এবং অন্যান্য অনেক প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও ধর্মীয় আচার হিসেবে সারাদিন অভুক্ত থাকার রীতি দেখা যায়। তবে ইসলামে একে ঈমান, নামাজ, যাকাত ও হজ্জের পাশাপাশি দ্বীনের একটি অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে এই বিধান আসার পর থেকেই রোজা আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়া অর্জনের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মদিনায় হিজরতের পর যেভাবে ফরজ হলো রমজানের রোজা।

প্রাক-ইসলামিক যুগ থেকে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষ: রোজার বিবর্তন

Update Time : ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম হলো রোজা। তবে বর্তমান বিশ্বে যেভাবে রমজান মাসে এক মাসব্যাপী রোজা রাখা হয়, ইসলামের শুরুর দিকে এই নিয়মটি এমন ছিল না।

 

ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, মক্কা ও মদিনায় ইসলাম প্রচারের আগে থেকেই রোজা রাখার রীতি প্রচলিত ছিল। আরবের কুরাইশ বংশের লোকেরা ইসলাম পূর্ব যুগেও আশুরার দিনে রোজা পালন করত। ইসলামের প্রাথমিক যুগে নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজে মাঝে মাঝে রোজা রাখলেও তখন সাধারণ বিশ্বাসী বা সাহাবীদের জন্য ৩০টি রোজা রাখা বাধ্যতামূলক বা ফরজ ছিল না।

 

 

ইসলামের ইতিহাসে রোজা পূর্ণাঙ্গ এবং বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে। এর আগে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের নবী অনুসারীদের নিয়ে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, যা মুসলিম বিশ্বের হিজরি ক্যালেন্ডারের সূচনা হিসেবে স্বীকৃত। হিজরতের ঠিক দুই বছর পর মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রমজান মাসের রোজা ফরজ করার নির্দেশ আসে। এরপর থেকেই সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ অপরিবর্তিত রূপে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান মাসে রোজা পালন করে আসছে।

 

 

উল্লেখ্য যে, উপবাস বা পানাহার থেকে বিরত থাকার এই আধ্যাত্মিক চর্চা কেবল ইসলামেই সীমাবদ্ধ নয়। ইহুদি এবং অন্যান্য অনেক প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও ধর্মীয় আচার হিসেবে সারাদিন অভুক্ত থাকার রীতি দেখা যায়। তবে ইসলামে একে ঈমান, নামাজ, যাকাত ও হজ্জের পাশাপাশি দ্বীনের একটি অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে এই বিধান আসার পর থেকেই রোজা আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়া অর্জনের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।