ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শপথের পর আলোচনায় রাষ্ট্রপতির ভাগ্য; সাংবিধানিক সংকটে নতুন সরকার।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে আর কীভাবে হবে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার যাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে এই সংসদীয় সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই জনমনে প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

 

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হলেও, কৌশলগত কারণে বিএনপি শুরু থেকেই তাতে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন, যা তাঁর সাংবিধানিক বৈধতাকে আরও সুসংহত করেছে।

 

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নিজে পদত্যাগ না করলে কিংবা সংসদের মাধ্যমে অভিশংসিত (Impeachment) না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়া সাপেক্ষে নতুন সংসদ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। ফলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন কাউকেও এই পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়।

 

 

এদিকে, রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আলোচিত ‘জুলাই সনদে’ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হলেও এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও মর্যাদায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সংসদ রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা পরিবর্তনের পথে হাঁটে, নাকি ক্ষমতার ভারসাম্য আনার সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমান কাঠামোতেই এগিয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে আইনি ও রাজনৈতিক উভয় দিকই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শপথের পর আলোচনায় রাষ্ট্রপতির ভাগ্য; সাংবিধানিক সংকটে নতুন সরকার।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে আর কীভাবে হবে?

Update Time : ০৫:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার যাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে এই সংসদীয় সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই জনমনে প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

 

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হলেও, কৌশলগত কারণে বিএনপি শুরু থেকেই তাতে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন, যা তাঁর সাংবিধানিক বৈধতাকে আরও সুসংহত করেছে।

 

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নিজে পদত্যাগ না করলে কিংবা সংসদের মাধ্যমে অভিশংসিত (Impeachment) না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়া সাপেক্ষে নতুন সংসদ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। ফলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন কাউকেও এই পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়।

 

 

এদিকে, রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আলোচিত ‘জুলাই সনদে’ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হলেও এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও মর্যাদায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সংসদ রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা পরিবর্তনের পথে হাঁটে, নাকি ক্ষমতার ভারসাম্য আনার সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমান কাঠামোতেই এগিয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে আইনি ও রাজনৈতিক উভয় দিকই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে।