বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৩তম। গত বছর এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম। অর্থাৎ, দুর্নীতির ব্যাপকতায় বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এবারের সূচকে ১০০-এর স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৪, যা গতবারের চেয়ে ১ পয়েন্ট বেশি। তবে এই সামান্য স্কোর বৃদ্ধি সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে পতন ঠেকাতে পারেনি। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক গড় স্কোর যেখানে ৪২, সেখানে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ২৪ হওয়া দুর্নীতির ভয়াবহতাকেই নির্দেশ করছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে ইতিবাচক মূল্যায়নের কারণে বাংলাদেশের স্কোর ১ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির ধারাবাহিকতা এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতার কাঙ্ক্ষিত দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারেনি, যার ফলে আমরা একটি বড় সুযোগ হারালাম।”
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে দুর্নীতি দমনে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভুটান (৭১ স্কোর)। অন্যদিকে, এই অঞ্চলে আফগানিস্তানের (১৬ স্কোর) পরেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। ভারত ও মালদ্বীপ ৩৯ স্কোর নিয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ৮৯ স্কোর নিয়ে টানা শীর্ষস্থানে আছে ডেনমার্ক। আর ৯ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকার তলানিতে রয়েছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া।
সিপিআই সূচক অনুযায়ী, শূন্য (০) থেকে ১০০-এর স্কেলে স্কোর নির্ধারণ করা হয়। যেখানে শূন্য মানে সর্বোচ্চ দুর্নীতি এবং ১০০ মানে পুরোপুরি স্বচ্ছতা। বাংলাদেশের অবস্থান এখনো এই স্কেলের নিচের দিকে থাকা সুশাসনের অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 















