আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমবার ফরিদপুর সফরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শহরের ঐতিহাসিক সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত ফরিদপুর বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি সামনে দেখার সুযোগ পেয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে বইছে সাজ সাজ রব।
জেলা বিএনপি ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান আগামীকাল বরিশালের জনসভা শেষ করে দুপুর পৌনে ২টায় হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুর শহরের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে গাড়ি বহর নিয়ে সরাসরি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের জনসভাস্থলে পৌঁছাবেন। এই জনসভায় বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচটি জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর থেকে দুই লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে দলটি। বিশাল এই জনসমাগম সামলাতে নিজস্ব ২ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জনসভাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের একাডেমি ভবনের সামনের অংশে বিশাল ও আধুনিক মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। মাঠজুড়ে শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম ও মাইক বসানোর কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক জানান, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে জেলা ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘সিএসএফ’ এবং পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশার পারদও বেশ উঁচুতে। বিশেষ করে ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো দলীয় প্রধানের সামনে তুলে ধরতে উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নির্বাচনি হাওয়া বিএনপির অনুকূলে আনতেই তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


























