৫ই আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। স্পিকার পদত্যাগ করে নিরুদ্দেশ এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাবন্দী। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কে পরিচালনা করবেন? সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামো এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এই সংকটের সম্ভাব্য সমাধানগুলো এখন আলোচনায়।
সাংবিধানিক সমাধান ও ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ
সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা অসম্ভব। এই সংকট মোকাবিলায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ একটি কার্যকর পথ বাতলে দেয়। এই ধারা অনুযায়ী, যদি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকে, তবে সংসদের কোনো সদস্যই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
আইন বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের আক্ষরিক বিধান সর্বদা মানা কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে একজন সর্বজন গ্রহণযোগ্য জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সাময়িকভাবে অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, যিনি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
অধিবেশন আহ্বান ও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা
মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, শপথের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই এই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ারও কথা রয়েছে। সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সব সংসদ সদস্য সেই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। আইনবিদদের মতে, এই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে অযথা আইনি বিতর্ক না বাড়িয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























