ছবি : সংগৃহীত
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ–তে পালমেইরাসের বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেইমার। ব্রাজিলের জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘জিওগ্লোবো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তোসের হয়ে খেলতে নামা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড নিজেকে আপাতত বিশ্রামে রাখার পরিকল্পনা করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার বর্তমানে তীব্র শারীরিক ক্লান্তি এবং ম্যাচের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছেন। তাছাড়া, পালমেইরাসের স্টেডিয়াম ‘আলিয়ানজ পার্ক’-এর কৃত্রিম ঘাসের মাঠ নিয়ে তাঁর মনে বড় ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের কৃত্রিম মাঠে পেশির চোট কিংবা লিগামেন্ট ইনজুরির ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন যেকোনো মূল্যে পূরণ করতে চান নেইমার। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তাই কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ তিনি। তাঁর বড় ভয়, এই মুহূর্তে চোট পেলে হয়তো বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর শেষবারের মতো খেলার স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। যদিও ব্রাজিল জাতীয় দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখনো বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি, তবে নেইমার নিজেকে সম্পূর্ণ ফিট রাখতে এবং সতর্কতামূলক সব পদক্ষেপ মেনে চলতে বদ্ধপরিকর।
নেইমার বর্তমানে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। হলুদ জার্সিতে ৭৯টি গোল করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলেকে। তবে জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বৈশ্বিক শিরোপা ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয়নি তাঁর। ক্যারিয়ারে একটি কনফেডারেশন্স কাপ এবং একটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক ছাড়া বিশ্বকাপের মতো বড় কোনো ট্রফি না জেতার আক্ষেপ রয়েছে তাঁর মনে। নিজের সেই অপূর্ণতা ঘোচাতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে খেলার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে চাইছেন।
সান্তোস ক্লাবের চিকিৎসা দলের পক্ষ থেকেও নেইমারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা হয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন খেলোয়াড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার ও জাতীয় দলের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই তাঁকে সাময়িক বিশ্রামে রাখা হয়েছে। তবে নেইমার না থাকায় সান্তোসের আক্রমণভাগে কিছুটা যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তারপরও সমর্থকরা মনে করছেন, নেইমারের এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশনের জন্যই মঙ্গলজনক হবে।

স্পোর্টস ডেস্ক 















