ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইয়ামালের গোলে স্বস্তির ড্র ফ্লিক বাহিনীর; স্তব্ধ সেন্ট জেমস পার্ক

শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে নিউক্যাসলের জয় কেড়ে নিল বার্সা

ছবি : ইএসপিএন

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেডের রূপকথার গল্প লেখার মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। সেন্ট জেমস পার্কে উপস্থিত হাজার হাজারম্যাগপাইসমর্থক যখন বার্সেলোনা বধের চূড়ান্ত উল্লাসে মেতে ওঠার অপেক্ষায়, তখনই দৃশ্যপটে হাজির ১৬ বছরের বিষ্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় বার্সেলোনার সাথে ১১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিউক্যাসলকে। খেলার একেবারে শেষ কিকে ইয়ামালের পেনাল্টি গোল স্বাগতিকদের স্বপ্ন চূর্ণ করে দেয়।

 

ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে এসে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৮৬তম মিনিটে সেন্ট জেমস পার্ককে উল্লাসে ভাসান হার্ভি বার্নেস। তাঁর দুর্দান্ত গোলে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। গ্যালারিতে তখন উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের কিংবদন্তি টিনো আসপ্রিলা, যিনি ১৯৯৭ সালে এই বার্সেলোনার বিপক্ষেই হ্যাটট্রিক করে ৩২ গোলের ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন। আসপ্রিলার উপস্থিতিতে আরও একটি ঐতিহাসিক জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ঘটে বিপত্তি। বার্সার বদলি খেলোয়াড় দানি ওলমোকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন নিউক্যাসল ডিফেন্ডার মালিক থিয়াও। রেফারির পেনাল্টির বাঁশিতে স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। চাপের মুখে অসীম ধৈর্য দেখিয়ে পেনাল্টি স্পট থেকে বল জালে জড়ান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল।

 

ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের জন্য এই ড্র মেনে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েও পূর্ণ পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশায় পুড়ছেন কোচ এডি হাউ। অন্যদিকে, ভাগ্যের জোড়ে হার এড়িয়ে তৃপ্ত বার্সেলোনা বস হ্যান্সি ফ্লিক। তিনি বলেন, “আমি এই ফলাফল নিয়ে সত্যি অনেক খুশি। বল দখলে আমরা কিছুটা ভুগেছি, সহজ ভুল করে নিউক্যাসলকে সুযোগ দিয়েছি। তারা গতিময় ফুটবল খেলে আমাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল। তবে দল যেভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচে ফিরেছে, তা প্রশংসনীয়।

 

আগামী বুধবার ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম না থাকলেও ঘরের মাঠে বার্সেলোনা নিশ্চিতভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তবে সেন্ট জেমস পার্কের এই পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেতে পারে নিউক্যাসল। ইয়ামালের এই গোল বার্সাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করলেও, দ্বিতীয় লেগে লড়াইটা যে সমানে সমান হবে, তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখল প্রথম লেগের এই ড্র।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ইয়ামালের গোলে স্বস্তির ড্র ফ্লিক বাহিনীর; স্তব্ধ সেন্ট জেমস পার্ক

শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে নিউক্যাসলের জয় কেড়ে নিল বার্সা

Update Time : ১০:২৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ছবি : ইএসপিএন

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেডের রূপকথার গল্প লেখার মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। সেন্ট জেমস পার্কে উপস্থিত হাজার হাজারম্যাগপাইসমর্থক যখন বার্সেলোনা বধের চূড়ান্ত উল্লাসে মেতে ওঠার অপেক্ষায়, তখনই দৃশ্যপটে হাজির ১৬ বছরের বিষ্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় বার্সেলোনার সাথে ১১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিউক্যাসলকে। খেলার একেবারে শেষ কিকে ইয়ামালের পেনাল্টি গোল স্বাগতিকদের স্বপ্ন চূর্ণ করে দেয়।

 

ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে এসে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৮৬তম মিনিটে সেন্ট জেমস পার্ককে উল্লাসে ভাসান হার্ভি বার্নেস। তাঁর দুর্দান্ত গোলে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। গ্যালারিতে তখন উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের কিংবদন্তি টিনো আসপ্রিলা, যিনি ১৯৯৭ সালে এই বার্সেলোনার বিপক্ষেই হ্যাটট্রিক করে ৩২ গোলের ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন। আসপ্রিলার উপস্থিতিতে আরও একটি ঐতিহাসিক জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ঘটে বিপত্তি। বার্সার বদলি খেলোয়াড় দানি ওলমোকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন নিউক্যাসল ডিফেন্ডার মালিক থিয়াও। রেফারির পেনাল্টির বাঁশিতে স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। চাপের মুখে অসীম ধৈর্য দেখিয়ে পেনাল্টি স্পট থেকে বল জালে জড়ান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল।

 

ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের জন্য এই ড্র মেনে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েও পূর্ণ পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশায় পুড়ছেন কোচ এডি হাউ। অন্যদিকে, ভাগ্যের জোড়ে হার এড়িয়ে তৃপ্ত বার্সেলোনা বস হ্যান্সি ফ্লিক। তিনি বলেন, “আমি এই ফলাফল নিয়ে সত্যি অনেক খুশি। বল দখলে আমরা কিছুটা ভুগেছি, সহজ ভুল করে নিউক্যাসলকে সুযোগ দিয়েছি। তারা গতিময় ফুটবল খেলে আমাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল। তবে দল যেভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচে ফিরেছে, তা প্রশংসনীয়।

 

আগামী বুধবার ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম না থাকলেও ঘরের মাঠে বার্সেলোনা নিশ্চিতভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তবে সেন্ট জেমস পার্কের এই পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেতে পারে নিউক্যাসল। ইয়ামালের এই গোল বার্সাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করলেও, দ্বিতীয় লেগে লড়াইটা যে সমানে সমান হবে, তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখল প্রথম লেগের এই ড্র।