ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মাঠপর্যায়ে বাড়ছে সক্রিয়তা; বিএনপির কৌশলী অবস্থানে নতুন সমীকরণ

রাজনীতিতে ফিরতে সক্রিয় আওয়ামী লীগ: নেপথ্যে নতুন সমীকরণ?

দীর্ঘ ১৮ মাস পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পরদিন থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত এক ডজনেরও বেশি জেলায় দলটির নেতাকর্মীরা ঝটিকা কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ পটুয়াখালী, বরগুনা, ঠাকুরগাঁও, শরীয়তপুর এবং নোয়াখালীর মতো জেলাগুলোতে দলীয় কার্যালয় খুলে পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টাঙানো এবং দোয়া মাহফিলের খবর পাওয়া গেছে। যদিও অনেক জায়গায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মীদের বাধার মুখে এই তৎপরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টিকে কেবল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন না; বরং একে জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেওয়ার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপির শপথ না নেওয়া এবং জুলাই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দলটির অবস্থান আওয়ামী লীগের অনানুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্থান মোকাবিলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে একটিঅঘোষিত সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিনের জামিন লাভকে অনেকে বর্তমান সরকারের নমনীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

 

বিএনপির হাইকমান্ডও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনাকে জনগণের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি সজীব ওয়াজেদ জয়ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে সরকার পরে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাবে। মূলত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে দীর্ঘকাল মাঠের বাইরে রাখলে তৃতীয় কোনো শক্তির উত্থান হতে পারেএমন ভাবনা থেকেই বিএনপির একটি অংশ আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হওয়ার পক্ষপাতী।

 

তবে এই নীরব সমীকরণ বা সমঝোতার পথ যে মসৃণ হবে না, তা স্পষ্ট করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারি। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগকে হঠাৎ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিলে জামায়াত, এনসিপি এবং বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা তা সহজে মেনে নেবে না। তাঁর মতে, আগে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, এরপরই হয়তো তারা ধীরে ধীরে রাজনীতিতে আসার সুযোগ পেতে পারে। আপাতত বড় কোনো কর্মসূচিতে না গিয়ে ছোট ছোট প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই আওয়ামী লীগের বর্তমান কৌশল। এই কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মোজতবা খামেনি

মাঠপর্যায়ে বাড়ছে সক্রিয়তা; বিএনপির কৌশলী অবস্থানে নতুন সমীকরণ

রাজনীতিতে ফিরতে সক্রিয় আওয়ামী লীগ: নেপথ্যে নতুন সমীকরণ?

Update Time : ১০:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ মাস পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পরদিন থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত এক ডজনেরও বেশি জেলায় দলটির নেতাকর্মীরা ঝটিকা কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ পটুয়াখালী, বরগুনা, ঠাকুরগাঁও, শরীয়তপুর এবং নোয়াখালীর মতো জেলাগুলোতে দলীয় কার্যালয় খুলে পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টাঙানো এবং দোয়া মাহফিলের খবর পাওয়া গেছে। যদিও অনেক জায়গায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মীদের বাধার মুখে এই তৎপরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টিকে কেবল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন না; বরং একে জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেওয়ার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপির শপথ না নেওয়া এবং জুলাই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দলটির অবস্থান আওয়ামী লীগের অনানুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্থান মোকাবিলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে একটিঅঘোষিত সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিনের জামিন লাভকে অনেকে বর্তমান সরকারের নমনীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

 

বিএনপির হাইকমান্ডও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনাকে জনগণের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি সজীব ওয়াজেদ জয়ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে সরকার পরে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাবে। মূলত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে দীর্ঘকাল মাঠের বাইরে রাখলে তৃতীয় কোনো শক্তির উত্থান হতে পারেএমন ভাবনা থেকেই বিএনপির একটি অংশ আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হওয়ার পক্ষপাতী।

 

তবে এই নীরব সমীকরণ বা সমঝোতার পথ যে মসৃণ হবে না, তা স্পষ্ট করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারি। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগকে হঠাৎ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিলে জামায়াত, এনসিপি এবং বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা তা সহজে মেনে নেবে না। তাঁর মতে, আগে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, এরপরই হয়তো তারা ধীরে ধীরে রাজনীতিতে আসার সুযোগ পেতে পারে। আপাতত বড় কোনো কর্মসূচিতে না গিয়ে ছোট ছোট প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই আওয়ামী লীগের বর্তমান কৌশল। এই কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।