ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ; ফিরছে স্বস্তি

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান ও আজারবাইজান থেকে ফিরলেন ৫৬২ বাংলাদেশি

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ইরানইসরায়েল যুদ্ধের জেরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুই দফায় মোট ৫৬২ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন এবং ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রথম দফায় ইরান থেকে আসা ২৮২ জন বাংলাদেশি বহনকারী একটি চার্টার্ড ফ্লাইট রাত ৭টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাহরাইন ও দাম্মাম হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা প্রিয় জন্মভূমিতে পা রাখেন।

 

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঘরমুখী এই প্রবাসীদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি আর ঘরে ফেরার আনন্দ। গত কয়েক মাস ধরে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। এর আগে গত বছরের জুন মাসেও একই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের পাকিস্তান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এবারও পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে দ্রুত তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

এদিকে, দ্বিতীয় দফায় আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে আরও ২৮০ জন বাংলাদেশি রাত ১টা ২৭ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট বিজি৫৩০২এ করে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের এই অত্যাধুনিক বিমানটি বাকু হায়দার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই বাংলাদেশিদের সরিয়ে আজারবাইজানের বাকুতে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখান থেকেই আজ তাদের চূড়ান্তভাবে দেশে পাঠানো হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব এলাকায় সংঘাত চলছে, সেখানে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে ফেরা এই প্রবাসীদের পুনর্বাসনেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ; ফিরছে স্বস্তি

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান ও আজারবাইজান থেকে ফিরলেন ৫৬২ বাংলাদেশি

Update Time : ০৬:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ইরানইসরায়েল যুদ্ধের জেরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুই দফায় মোট ৫৬২ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন এবং ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রথম দফায় ইরান থেকে আসা ২৮২ জন বাংলাদেশি বহনকারী একটি চার্টার্ড ফ্লাইট রাত ৭টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাহরাইন ও দাম্মাম হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা প্রিয় জন্মভূমিতে পা রাখেন।

 

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঘরমুখী এই প্রবাসীদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি আর ঘরে ফেরার আনন্দ। গত কয়েক মাস ধরে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। এর আগে গত বছরের জুন মাসেও একই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের পাকিস্তান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এবারও পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে দ্রুত তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

এদিকে, দ্বিতীয় দফায় আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে আরও ২৮০ জন বাংলাদেশি রাত ১টা ২৭ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট বিজি৫৩০২এ করে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের এই অত্যাধুনিক বিমানটি বাকু হায়দার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই বাংলাদেশিদের সরিয়ে আজারবাইজানের বাকুতে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখান থেকেই আজ তাদের চূড়ান্তভাবে দেশে পাঠানো হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব এলাকায় সংঘাত চলছে, সেখানে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে ফেরা এই প্রবাসীদের পুনর্বাসনেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।