ছবি : সংগৃহীত
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামা টাইগারদের সামনে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে সফরকারীরা। তবে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হলেও পুরো ম্যাচের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৩৯তম ওভারে সালমান আগার এক বিতর্কিত ও নাটকীয় রানআউট। এই একটি আউটেই যেন ম্যাচের মোমেন্টাম এবং দুই দলের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গেছে।
ঘটনাটি ঘটে ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। বল করছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্রিজে তখন জমে যাওয়া জুটি মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা। মিরাজের করা চতুর্থ বলটি রিজওয়ান রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেললে বলটি বোলারের দিকেই ফিরে যাচ্ছিল। নন–স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা সালমান আগা পিচের ওপর পড়ে থাকা বলটি কুড়িয়ে বন্ধুসুলভভাবে মিরাজকে এগিয়ে দিতে চান। কিন্তু মিরাজ বল হাতে পাওয়া মাত্রই সুযোগ লুফে নেন এবং সালমান ক্রিজের বাইরে থাকাবস্থায় স্টাম্প ভেঙে দেন। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত জানালে স্তব্ধ হয়ে যান সালমান। রাগে ও ক্ষোভে গ্লাভস এবং হেলমেট ছুড়ে মারেন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সাথে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে লিটন দাসও উত্তেজিত হয়ে পড়লে রিজওয়ান এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক বিভাজন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা বিষয়টিকে ক্রিকেটীয় আইনের দৃষ্টিতে দেখছেন। তিনি বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বন্ধুত্বের কোনো জায়গা নেই। মিরাজ রানআউট করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। সালমান কেন প্রতিপক্ষকে সাহায্য করতে গেলেন? তবে বাংলাদেশ চাইলে বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে সামলাতে পারত।” অন্যদিকে, এই আউটের তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ। তিনি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মিরাজের এই আচরণ অত্যন্ত দুর্বল স্পোর্টসম্যানশিপের পরিচয়।“
এই আউটের পরপরই পথ হারায় পাকিস্তান। হাফ সেঞ্চুরিয়ান সালমান (৬৪) ফেরার পর একই ওভারে অধিনায়ক রিজওয়ানও (৪৪) সাজঘরে ফেরেন। ১০৯ রানের শক্ত জুটিটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার। এক সময় ৩০০ ছাড়ানো স্কোর মনে হলেও শেষ পর্যন্ত ২৭৪ রানেই থামতে হয় আজম খানদের। ক্রিকেটীয় চেতনা নাকি জয়ের ক্ষুধা- কোনটি বড়, সেই বিতর্ক আপাতত মিরপুরের গ্যালারি ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক 















