সংগৃহীত ছবি
স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় বিভাগে রিয়াল জারাগোজা ও হুয়েস্কার মধ্যকার ডার্বি ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াইয়ের চেয়ে বেশি কুখ্যাত হয়ে থাকল খেলোয়াড়দের অপেশাদার আচরণের কারণে। ম্যাচের একদম শেষ পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঘুষি মেরে বসেন জারাগোজার গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে মাঠ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে প্রতিপক্ষ এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান আন্দ্রাদা। কিন্তু লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পরিবর্তে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুয়েস্কা অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর দিকে তেড়ে যান এবং সরাসরি তাঁর মুখে ঘুষি মারেন। এই অপ্রত্যাশিত হামলায় পরিস্থিতি দ্রুত ঘোলাটে হয়ে যায়। দুই দলের ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফরা মাঠের ভেতরেই সংঘর্ষে লিপ্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারিকে হিমশিম খেতে হয় এবং আরও দুজনকে লাল কার্ড দেখাতে হয়—হুয়েস্কার গোলরক্ষক দানি হিমেনেজ এবং জারাগোজার দানি তাসেন্দে।
ম্যাচ শেষে অবশ্য নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত আন্দ্রাদা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সেই মুহূর্তে আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এটি মোটেও কাম্য নয়। আমি আমার ক্লাব ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী এবং লিগ কর্তৃপক্ষ যে শাস্তিই দেবে তা মাথা পেতে নেব।” অন্যদিকে, রিয়াল জারাগোজা ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দ্রাদার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হুয়েস্কা কোচ হোসে লুইস এই ঘটনাকে ‘নিয়ন্ত্রণ হারানোর চূড়ান্ত উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ম্যাচটিতে ১-০ ব্যবধানে হুয়েস্কা জয় পেলেও দুই দলের জন্যই অবনমন এড়ানোর লড়াই এখন আরও কঠিন হয়ে পড়ল। মৌসুম শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ ম্যাচ বাকি, এমন সময় প্রধান গোলরক্ষকের এই দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারাগোজার জন্য বড় বিপদ হয়ে আসতে পারে।

















