ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উত্তর সাকুচিয়ায় গণসংযোগে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নৌবাহিনীর টহল

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: সাংবাদিকসহ আহত ১০

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ভোলার মনপুরায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলা বিএনপির এক নেতার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা গণসংযোগে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

ঘটনার বিষয়ে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।” অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম ফরাজি বলেন, “বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে জামায়াত কর্মীরা সেখানে গিয়ে উস্কানিমূলক আচরণ করে, যা থেকে হাতাহাতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।”

 

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে এমন সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তর সাকুচিয়ায় গণসংযোগে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নৌবাহিনীর টহল

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: সাংবাদিকসহ আহত ১০

Update Time : ১২:৪১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ভোলার মনপুরায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলা বিএনপির এক নেতার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা গণসংযোগে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

ঘটনার বিষয়ে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।” অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম ফরাজি বলেন, “বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে জামায়াত কর্মীরা সেখানে গিয়ে উস্কানিমূলক আচরণ করে, যা থেকে হাতাহাতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।”

 

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে এমন সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।