সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনকালে রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করেন। তিনি বলেন, “একটি রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। এই পরিবর্তন কোনো সাধারণ পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের পুনর্বাসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকার যেসব জনকল্যাণমূলক ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তিনি বলেন, “সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি চালু করেছে, যা কেবল নিম্নবিত্তের জন্য সহায়তাই নয়, বরং নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেও কাজ করছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা বাংলাদেশের ওপর যে প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়েও তিনি সংসদকে অবহিত করেন। কৃষি ও অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনকল্যাণই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ অধিবেশনে এক গম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করছিল। তিনি তার বক্তব্যের শেষে আশা প্রকাশ করেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।
















