আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনি অপরাধ দমনে সারাদেশে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই বিশাল সংখ্যক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত এই ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১০(৫) ধারার বিধান অনুযায়ী এসব কর্মকর্তাকে বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তারা মূলত বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ‘মোবাইল কোর্ট’ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাঁদের। মূলত ভোটের আগের ও পরের কয়েকদিন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।
নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রস্তুতির জন্য আগামীকাল ৫ ফেব্রুয়ারি দুটি ব্যাচে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় প্রথম ব্যাচে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে দ্বিতীয় ব্যাচে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ শেষে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁদের সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে যোগদান করতে হবে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাঁদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। দায়িত্ব পালনকালে প্রতিদিনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য নির্ধারিত ছকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনের সময় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ১ হাজার ৫১ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 
























