ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টিকাদান কর্মসূচি ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে স্থবিরতার আশঙ্কা; বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান: বড় সংকটের মুখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান: বড় সংকটের মুখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ডব্লিউএইচও নয়, এর আগে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-সহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে ডব্লিউএইচও-র বিশাল অবদান রয়েছে। কিন্তু সংস্থাটির বৃহত্তম অর্থায়নকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় এখন সেই কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন জানিয়েছেন, সংস্থাটি থেকে মার্কিন তহবিল বন্ধ হওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এবং অনেক কার্যক্রম কাটছাঁট করা হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI), সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, ইমার্জেন্সি রেসপন্স এবং ল্যাবরেটরি সাপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা ইউএনএফপিএ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও এই প্রস্থান এখন কার্যকর হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক বছর আগে থেকেই এসব সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব মাঠ পর্যায়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, সম্ভাব্য সংকট এড়াতে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তাদের এখনই বিকল্প অর্থায়ন কিংবা অভ্যন্তরীণ বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়ানোর স্থায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায়, গত কয়েক দশকে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ যে অর্জন করেছে, তা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক এই সংস্থাগুলোর বিকল্প খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

টিকাদান কর্মসূচি ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে স্থবিরতার আশঙ্কা; বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান: বড় সংকটের মুখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত

Update Time : ০৭:৪৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান: বড় সংকটের মুখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ডব্লিউএইচও নয়, এর আগে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-সহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে ডব্লিউএইচও-র বিশাল অবদান রয়েছে। কিন্তু সংস্থাটির বৃহত্তম অর্থায়নকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় এখন সেই কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন জানিয়েছেন, সংস্থাটি থেকে মার্কিন তহবিল বন্ধ হওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এবং অনেক কার্যক্রম কাটছাঁট করা হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI), সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, ইমার্জেন্সি রেসপন্স এবং ল্যাবরেটরি সাপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা ইউএনএফপিএ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও এই প্রস্থান এখন কার্যকর হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক বছর আগে থেকেই এসব সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব মাঠ পর্যায়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, সম্ভাব্য সংকট এড়াতে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তাদের এখনই বিকল্প অর্থায়ন কিংবা অভ্যন্তরীণ বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়ানোর স্থায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায়, গত কয়েক দশকে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ যে অর্জন করেছে, তা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক এই সংস্থাগুলোর বিকল্প খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।