ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক দুশ্চিন্তা দূর করতে বড় ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে ফিফা। উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিস্তৃত এই মেগা টুর্নামেন্টের বিশাল ভ্রমণ দূরত্ব, ভিন্ন ভিন্ন কর ব্যবস্থা এবং উচ্চ পরিচালনা ব্যয়ের কারণে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাসহ বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো লোকসানের আশঙ্কা প্রকাশ করছিল। এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের জন্য আর্থিক বরাদ্দের অঙ্ক বাড়িয়ে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
গতকাল মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিল সভায় এই নতুন অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়। ফিফার তথ্যমতে, আসন্ন আসরে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য মোট তহবিলের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার। ফিফা এর আগে ডিসেম্বরে প্রাইজমানি ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার করার ঘোষণা দিলেও, বর্তমান বাণিজ্যিক সাফল্যের প্রেক্ষিতে সেই অংক আরও ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “ফিফা বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে। আমরা গর্বিত যে আমাদের সদস্য দেশগুলোকে অভূতপূর্ব সহায়তা করতে পারছি, যা সরাসরি ফুটবলের উন্নয়নেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।”
নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি দেশ প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য ২.৫ মিলিয়ন ডলার পাবে, যা আগে ছিল মাত্র ১.৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ৯ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এর বাইরে প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের যাতায়াত ও আবাসন খরচে বিশেষ ভর্তুকি এবং অতিরিক্ত টিকিট বরাদ্দসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়া হবে, যার বাজারমূল্য হবে ১৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ও কর সংক্রান্ত জটিলতায় দলগুলো যাতে লোকসানের মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই বর্ধিত বরাদ্দ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের প্রথম আসর যেখানে ৩২টির পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নেবে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিন দেশে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যাও হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফিফার লক্ষ্য হলো টিকিট বিক্রি, স্পন্সরশিপ এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়া। এছাড়া ফিফার সদস্যভুক্ত ২১১টি দেশকে আগামী চার বছরের চক্রে ৫ মিলিয়ন ডলার করে এবং ছয়টি মহাদেশীয় সংস্থাকে ৬০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই বর্ধিত বাজেটের ফলে এখন ছোট দেশগুলোর জন্যও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি টেকসই ও লাভজনক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্পোর্টস ডেস্ক 















