ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
স্পিন নয়, বাউন্সি উইকেটে বাঘেদের কাছে কুপোকাত বাবর-রিজওয়ানরা

বাউন্সি পিচ তৈরি করে পাকিস্তানকে বোকা বানিয়েছে বাংলাদেশ

মিরপুরের মন্থর উইকেটে স্পিনারদের বিষাক্ত টার্ন সামলানোই ছিল পাকিস্তানের প্রধান দুশ্চিন্তা। কিন্তু সেই চেনা ছক বদলে ফেলে বাউন্সি ও স্পোর্টিং উইকেটে পাকিস্তানকে বোকা বানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে যখন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা উৎসবে মাতোয়ারা, তখন সাবেক পাকিস্তানি তারকা মোহাম্মদ আমিরের কণ্ঠে ঝরছে হারের ব্যবচ্ছেদ ও বিস্ময়।

 

সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের পতনের মূল কারিগর ছিলেন নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদরা। পুরো সিরিজে পাকিস্তানের হারানো ৩০টি উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের পিচ কিউরেটর টনি হেমিং এবার প্রথাগত ‘মন্থর’ উইকেটের পরিবর্তে গতি ও বাউন্স সমৃদ্ধ উইকেট তৈরি করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত করে দেয় শাহীন আফ্রিদির দলকে।

 

মোহাম্মদ আমির তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “সবাই জানত বাংলাদেশের কন্ডিশন কঠিন, কিন্তু এবার তারা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছে। তারা জানত আমরা স্পিন ভালো খেলি, তাই আমাদের জন্য স্পিনের পরিবর্তে বাউন্সি উইকেট তৈরি করে আমাদের বোকা বানিয়েছে।” আমিরের মতে, বাংলাদেশের এই কৌশলগত পরিবর্তনই সিরিজের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।

 

পরিসংখ্যানও বলছে পেসারদের দাপটের কথা। গতির ঝড় তুলে নাহিদ রানা একাই নিয়েছেন ৮টি উইকেট। অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ ৬টি ও মুস্তাফিজুর রহমান নিয়েছেন ৫টি উইকেট। সিরিজের তিন ম্যাচেই অলআউট হওয়া পাকিস্তানের ব্যাটাররা নাহিদ রানার ১৪৫-১৫০ কিমি গতির সাথে বাউন্স মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

সালমান আলী আগার সেঞ্চুরি শেষ ম্যাচে সম্ভাবনা জাগালেও সিরিজ হার এড়াতে পারেনি সফরকারীরা। এই হারের ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হলো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

স্পিন নয়, বাউন্সি উইকেটে বাঘেদের কাছে কুপোকাত বাবর-রিজওয়ানরা

বাউন্সি পিচ তৈরি করে পাকিস্তানকে বোকা বানিয়েছে বাংলাদেশ

Update Time : ০৯:৪০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মিরপুরের মন্থর উইকেটে স্পিনারদের বিষাক্ত টার্ন সামলানোই ছিল পাকিস্তানের প্রধান দুশ্চিন্তা। কিন্তু সেই চেনা ছক বদলে ফেলে বাউন্সি ও স্পোর্টিং উইকেটে পাকিস্তানকে বোকা বানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে যখন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা উৎসবে মাতোয়ারা, তখন সাবেক পাকিস্তানি তারকা মোহাম্মদ আমিরের কণ্ঠে ঝরছে হারের ব্যবচ্ছেদ ও বিস্ময়।

 

সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের পতনের মূল কারিগর ছিলেন নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদরা। পুরো সিরিজে পাকিস্তানের হারানো ৩০টি উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের পিচ কিউরেটর টনি হেমিং এবার প্রথাগত ‘মন্থর’ উইকেটের পরিবর্তে গতি ও বাউন্স সমৃদ্ধ উইকেট তৈরি করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত করে দেয় শাহীন আফ্রিদির দলকে।

 

মোহাম্মদ আমির তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “সবাই জানত বাংলাদেশের কন্ডিশন কঠিন, কিন্তু এবার তারা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছে। তারা জানত আমরা স্পিন ভালো খেলি, তাই আমাদের জন্য স্পিনের পরিবর্তে বাউন্সি উইকেট তৈরি করে আমাদের বোকা বানিয়েছে।” আমিরের মতে, বাংলাদেশের এই কৌশলগত পরিবর্তনই সিরিজের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।

 

পরিসংখ্যানও বলছে পেসারদের দাপটের কথা। গতির ঝড় তুলে নাহিদ রানা একাই নিয়েছেন ৮টি উইকেট। অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ ৬টি ও মুস্তাফিজুর রহমান নিয়েছেন ৫টি উইকেট। সিরিজের তিন ম্যাচেই অলআউট হওয়া পাকিস্তানের ব্যাটাররা নাহিদ রানার ১৪৫-১৫০ কিমি গতির সাথে বাউন্স মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

সালমান আলী আগার সেঞ্চুরি শেষ ম্যাচে সম্ভাবনা জাগালেও সিরিজ হার এড়াতে পারেনি সফরকারীরা। এই হারের ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হলো।