ঢাকা , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
‘ভোটকেন্দ্র বিমুখ করতে পরিকল্পিত হামলা’— দাবি সারজিসের; ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগে পাল্টা দাবি বিএনপির। আহত অন্তত ১৩।

পঞ্চগড়ে সারজিস আলম ও নওশাদ জমিরের সমর্থকদের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র আটোয়ারী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগে আগে পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকা। ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকদের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম এই সংঘর্ষকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, আটোয়ারীতে তাঁর শেষ নির্বাচনী জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম দেখে ইর্ষান্বিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ধামোর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে ভ্যান ও পিকআপ আটকে ধারালো অস্ত্র ও রিং দিয়ে তাঁর কর্মীদের আঘাত করা হয়েছে। এতে এক কর্মীর চোখে গুরুতর জখম হয়েছে এবং চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সারজিস আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাঁর গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে, যার ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রশাসনের ‘মীমাংসার নীতি’ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, আইনি ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

 

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করতে গেলে এনসিপি ও জামায়াত সমর্থকরা তাদের ওপর চড়াও হয়। বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ব্যারিস্টার নওফল জমির জানিয়েছেন, এই হামলায় ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ভোটকেন্দ্র বিমুখ করতে পরিকল্পিত হামলা’— দাবি সারজিসের; ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগে পাল্টা দাবি বিএনপির। আহত অন্তত ১৩।

পঞ্চগড়ে সারজিস আলম ও নওশাদ জমিরের সমর্থকদের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র আটোয়ারী

Update Time : ০৭:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগে আগে পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকা। ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকদের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম এই সংঘর্ষকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, আটোয়ারীতে তাঁর শেষ নির্বাচনী জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম দেখে ইর্ষান্বিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ধামোর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে ভ্যান ও পিকআপ আটকে ধারালো অস্ত্র ও রিং দিয়ে তাঁর কর্মীদের আঘাত করা হয়েছে। এতে এক কর্মীর চোখে গুরুতর জখম হয়েছে এবং চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সারজিস আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাঁর গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে, যার ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রশাসনের ‘মীমাংসার নীতি’ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, আইনি ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

 

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করতে গেলে এনসিপি ও জামায়াত সমর্থকরা তাদের ওপর চড়াও হয়। বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ব্যারিস্টার নওফল জমির জানিয়েছেন, এই হামলায় ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।