সংগৃহীত ছবি
জেদ্দা, সৌদি আরব: দীর্ঘ দুই দশকের খরা কাটিয়ে এশিয়ান ফুটবলে নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করল সৌদি আরবের জায়ান্ট ক্লাব আল-আহলি। গতকাল শনিবার জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে জাপানি ক্লাব মাচিদা জেলভিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা।
এশিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে কোনো ক্লাব হিসেবে দুই দশকেরও বেশি সময় পর টানা দুইবার শিরোপা ধরে রাখার অনন্য রেকর্ড গড়ল সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়নের খেতাবধারী এই দলটি।
নাটকীয় ফাইনাল ও লাল কার্ডের বাধা
কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৫৮,৯৮৪ জন দর্শকের উন্মাদনার মাঝে শুরু থেকেই লড়াই ছিল সমানে সমান। ম্যাচের দুই অর্ধে মাচিদা জেলভিয়া ও আল-আহলি একে অপরের রক্ষণে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি কেউই। তবে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় ৬৮ মিনিটে, যখন আল-আহলির জাকারিয়া আল হাওসাওয়ি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মোহাম্মদ ইউসুফ দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় সৌদি ক্লাবটি। ৯ জন নিয়ে এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা ছিল প্রায় অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।
অতিরিক্ত সময়ের ম্যাজিক
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯ জনের দল নিয়েও দমে যায়নি আল-আহলি। ম্যাচের ৯৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফারাস আল-বারিকানের একক নৈপুণ্যে করা গোলটি পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। বাকি সময় এই লিড ধরে রেখে অবিশ্বাস্য এক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে তারা।
কোচের প্রতিক্রিয়া
শিরোপা ধরে রাখার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন আল-আহলির কোচ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই শিরোপা জিততে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ৯ জন নিয়ে জাপানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা খেলোয়াড়দের অদম্য মানসিক শক্তিরই জয়।”

















