ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সেমিফাইনালের ৯ গোলের রোমাঞ্চে এনরিকের শিষ্যদের জয়; রেকর্ড গোল

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাস গড়া ম্যাচে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

ছবি : সংগৃহীত

 

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ যেন কোনো ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং ছিল এক মহাকাব্যিক গোল উৎসব। ম্যাচের আগে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে দাবি করেছিলেন, তাঁর দলই এই আসরের সেরা। মঙ্গলবার রাতে পার্ক দেস প্রিন্সে তাঁর শিষ্যরা যেন সেই কথারই প্রমাণ দিলেন। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৯ গোলের এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিকরা। ৫৪ ব্যবধানের এই জয়টি কেবল পিএসজিকে ফাইনালের দৌড়ে এগিয়েই দেয়নি, বরং চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সেমিফাইনালের এক লেগে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছে।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের ছটা। ১৭তম মিনিটে পিএসজির ডিফেন্ডার পাচো নিজেদের বক্সে বায়ার্নের লুইস দিয়াজকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি বায়ার্নের গোলমেশিন হ্যারি কেন। এটি চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর ৫৪তম গোল। তবে পিএসজি সমর্থকদের বেশিক্ষণ হতাশ থাকতে হয়নি। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক নৈপুণ্যে বায়ার্নের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে দারুণ এক গোল করে সমতা ফেরান জর্জিয়ান তারকা কাভারাৎসখেলিয়া।

 

ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে আবারও পার্ক দেস প্রিন্সে উল্লাস। ওসমানে দেম্বেলের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে পিএসজিকে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন জোয়াও নেভেস। কিন্তু বায়ার্নও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; মাইকেল ওলিসে দ্রুতই সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের একেবারে অন্তিম সময়ে ড্যানি গিবসনের হ্যান্ডবলের সুবাদে পেনাল্টি পায় পিএসজি। সেখান থেকে গোল করে ৩২ ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষ করেন ওসমানে দেম্বেলে।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল পুরোপুরিপিএসজি শো কাভারাৎসখেলিয়া এবং দেম্বেলে যেন বায়ার্ন রক্ষণভাগ নিয়ে ছেলেখেলায় মেতেছিলেন। ৫৬তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন কাভারাৎসখেলিয়া। এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে দেম্বেলে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫২। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন প্যারিসের সমর্থকদের উৎসবের আমেজ।

 

তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা চালায় ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। কিমিচের মাপা ফ্রিকিক থেকে দাইও উপামেকানোর হেড স্কোরলাইন ৫৩ করে। ৮১তম মিনিটে লুইস দিয়াজ একক প্রচেষ্টায় আরও একটি গোল করলে ম্যাচটি ৫এ দাঁড়ায় এবং শেষ মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বাকি সময়টুকু রক্ষণভাগ সামলে রেখে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে এনরিকের দল। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৫৯৬০ মৌসুমে আইট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ও রেঞ্জার্স ম্যাচে ৯ গোল হয়েছিল, ৬৬ বছর পর সেই রেকর্ড স্পর্শ করল পিএসজি ও বায়ার্ন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সেমিফাইনালের ৯ গোলের রোমাঞ্চে এনরিকের শিষ্যদের জয়; রেকর্ড গোল

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাস গড়া ম্যাচে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

Update Time : ১০:৪১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ যেন কোনো ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং ছিল এক মহাকাব্যিক গোল উৎসব। ম্যাচের আগে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে দাবি করেছিলেন, তাঁর দলই এই আসরের সেরা। মঙ্গলবার রাতে পার্ক দেস প্রিন্সে তাঁর শিষ্যরা যেন সেই কথারই প্রমাণ দিলেন। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৯ গোলের এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিকরা। ৫৪ ব্যবধানের এই জয়টি কেবল পিএসজিকে ফাইনালের দৌড়ে এগিয়েই দেয়নি, বরং চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সেমিফাইনালের এক লেগে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছে।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের ছটা। ১৭তম মিনিটে পিএসজির ডিফেন্ডার পাচো নিজেদের বক্সে বায়ার্নের লুইস দিয়াজকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি বায়ার্নের গোলমেশিন হ্যারি কেন। এটি চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর ৫৪তম গোল। তবে পিএসজি সমর্থকদের বেশিক্ষণ হতাশ থাকতে হয়নি। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক নৈপুণ্যে বায়ার্নের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে দারুণ এক গোল করে সমতা ফেরান জর্জিয়ান তারকা কাভারাৎসখেলিয়া।

 

ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে আবারও পার্ক দেস প্রিন্সে উল্লাস। ওসমানে দেম্বেলের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে পিএসজিকে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন জোয়াও নেভেস। কিন্তু বায়ার্নও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; মাইকেল ওলিসে দ্রুতই সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের একেবারে অন্তিম সময়ে ড্যানি গিবসনের হ্যান্ডবলের সুবাদে পেনাল্টি পায় পিএসজি। সেখান থেকে গোল করে ৩২ ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষ করেন ওসমানে দেম্বেলে।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল পুরোপুরিপিএসজি শো কাভারাৎসখেলিয়া এবং দেম্বেলে যেন বায়ার্ন রক্ষণভাগ নিয়ে ছেলেখেলায় মেতেছিলেন। ৫৬তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন কাভারাৎসখেলিয়া। এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে দেম্বেলে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫২। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন প্যারিসের সমর্থকদের উৎসবের আমেজ।

 

তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা চালায় ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। কিমিচের মাপা ফ্রিকিক থেকে দাইও উপামেকানোর হেড স্কোরলাইন ৫৩ করে। ৮১তম মিনিটে লুইস দিয়াজ একক প্রচেষ্টায় আরও একটি গোল করলে ম্যাচটি ৫এ দাঁড়ায় এবং শেষ মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বাকি সময়টুকু রক্ষণভাগ সামলে রেখে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে এনরিকের দল। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৫৯৬০ মৌসুমে আইট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ও রেঞ্জার্স ম্যাচে ৯ গোল হয়েছিল, ৬৬ বছর পর সেই রেকর্ড স্পর্শ করল পিএসজি ও বায়ার্ন।