ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনে মিলবে মুক্তি

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি: সুস্থ থাকতে বদলান জীবনযাপন

বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা কিংবা খালি পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বছরের পর বছর অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করেন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা না ভেবে এভাবে ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাকস্থলীর ভেতরের আবরণে প্রদাহ বা অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণই মূলত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে পেপটিক আলসার থেকে শুরু করে পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো জটিল ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ঝাল-তেলযুক্ত খাবার, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং ঘুমের অভাব গ্যাস্ট্রিকের প্রধান কারণ। এছাড়া ‘হ্যালিকোব্যাকটার পাইলোরি’ নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণও এর জন্য দায়ী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনে শরীরে ভিটামিন বি১২ ও আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং হজমশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অন্ত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাই এর স্থায়ী সমাধান।

সুস্থ থাকতে সময়মতো সুষম খাবার গ্রহণ, রাতে ঘুমানোর অন্তত তিন-চার ঘণ্টা আগে ডিনার শেষ করা এবং অতিরিক্ত চা-কফি বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ডা. নয়ন জানান, যদি দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে ওজন হ্রাস, রক্তবমি বা কালো পায়খানা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে ‘এন্ডোস্কোপি’ বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনে মিলবে মুক্তি

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি: সুস্থ থাকতে বদলান জীবনযাপন

Update Time : ১০:০১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা কিংবা খালি পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বছরের পর বছর অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করেন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা না ভেবে এভাবে ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাকস্থলীর ভেতরের আবরণে প্রদাহ বা অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণই মূলত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে পেপটিক আলসার থেকে শুরু করে পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো জটিল ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ঝাল-তেলযুক্ত খাবার, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং ঘুমের অভাব গ্যাস্ট্রিকের প্রধান কারণ। এছাড়া ‘হ্যালিকোব্যাকটার পাইলোরি’ নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণও এর জন্য দায়ী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনে শরীরে ভিটামিন বি১২ ও আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং হজমশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অন্ত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাই এর স্থায়ী সমাধান।

সুস্থ থাকতে সময়মতো সুষম খাবার গ্রহণ, রাতে ঘুমানোর অন্তত তিন-চার ঘণ্টা আগে ডিনার শেষ করা এবং অতিরিক্ত চা-কফি বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ডা. নয়ন জানান, যদি দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে ওজন হ্রাস, রক্তবমি বা কালো পায়খানা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে ‘এন্ডোস্কোপি’ বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।