ছবি : রয়টার্স
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার পারদ প্রশমিত করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যে সম্ভাব্য আলোচনার ডাক দেওয়া হয়েছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
একদিকে আলোচনার ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তান সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছে, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে এসে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বৈঠকের সম্ভাবনা ম্লান হতে শুরু করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান এক কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষার সম্মুখীন।
এই অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে ইরানের একটি গুরুতর অভিযোগ। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং ইরানের একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এমন বৈরি পরিবেশে তারা আলোচনার টেবিলে বসার কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না। যদিও পর্দার আড়ালে পাকিস্তান সরকার দুই পক্ষকে এক করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জাহাজে হামলার ঘটনাটি আলোচনার শুরুতেই বড় ধরনের বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রহস্যজনক কারণে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত এই বৈঠকের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা আলোচ্যসূচি ঘোষণা করেনি। ওয়াশিংটনের এই নীরবতা এবং ইরানের সরাসরি প্রত্যাখ্যান—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান সরকার বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সম্ভাব্য এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদকে বর্তমানে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের এই ব্যাপক আয়োজন শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই উত্তেজনা বিশ্ব কূটনীতিকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।

















