ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির বিশ্ববাজার: ডলারের বাজারে ইয়েনের বড় প্রভাব

সংগৃহীত ছবি

 

মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, অন্যদিকে মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য অন্যান্য প্রধান মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে জাপানি মুদ্রা ইয়েন ও ইউরোর ক্রমাগত দরপতন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

 

 

বুধবার আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের মান সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এখন মূল দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সভার দিকে। সবাই মুখিয়ে আছেন ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সুদের হার নিয়ে কী বার্তা দেন তা শোনার জন্য। একই সঙ্গে মার্কিন রাজনীতিতে পাওয়েলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ডলারকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

 

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। টানা আট দিন ধরে বেড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা থমকে গেছে। এই অচলাবস্থার কারণে সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় তেলের দাম কমছে না, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

 

 

জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবস্থা এখন সবচাইতে নাজুক। ডলারের বিপরীতে ইয়েন এখন ১৬০-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। মুদ্রার মান পতনে আমদানিনির্ভর জাপানি অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাংক অফ জাপান সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও বাজার এখনও স্থিতিশীল হয়নি। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইয়েন ১৬০ ছাড়িয়ে গেলে জাপান সরকার বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর আগে জুলাই ২০২৪-এ অনুরূপ পরিস্থিতিতে জাপান সরকারকে মুদ্রা বাজারে ডলার বিক্রি করে ইয়েন বাঁচাতে দেখা গিয়েছিল।

 

 

ইউরোপ ও এশিয়ার মুদ্রাবাজারেও পতনের ঢেউ লেগেছে। বুধবার ইউরোর দাম ০.০৭ শতাংশ কমে ১.১৭০৫ ডলারে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ০.০৫ শতাংশ কমে ১.৩৫১৩ ডলারে নেমেছে। এমইউএফজি গ্লোবাল মার্কেটের গবেষণা প্রধান ডেরেক হ্যালপেনি সতর্ক করেছেন যে, তেলের দাম ১১০ ডলারের উপরে থাকা মানেই ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত তৈরি হওয়া।

 

 

আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ফেডের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো টেক জায়ান্টদের আয়ের প্রতিবেদন এবং বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতি ঘোষণা। সব মিলিয়ে এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বৈশ্বিক অর্থনীতি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির বিশ্ববাজার: ডলারের বাজারে ইয়েনের বড় প্রভাব

Update Time : ০৭:৪৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, অন্যদিকে মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য অন্যান্য প্রধান মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে জাপানি মুদ্রা ইয়েন ও ইউরোর ক্রমাগত দরপতন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

 

 

বুধবার আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের মান সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এখন মূল দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সভার দিকে। সবাই মুখিয়ে আছেন ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সুদের হার নিয়ে কী বার্তা দেন তা শোনার জন্য। একই সঙ্গে মার্কিন রাজনীতিতে পাওয়েলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ডলারকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

 

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। টানা আট দিন ধরে বেড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা থমকে গেছে। এই অচলাবস্থার কারণে সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় তেলের দাম কমছে না, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

 

 

জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবস্থা এখন সবচাইতে নাজুক। ডলারের বিপরীতে ইয়েন এখন ১৬০-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। মুদ্রার মান পতনে আমদানিনির্ভর জাপানি অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাংক অফ জাপান সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও বাজার এখনও স্থিতিশীল হয়নি। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইয়েন ১৬০ ছাড়িয়ে গেলে জাপান সরকার বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর আগে জুলাই ২০২৪-এ অনুরূপ পরিস্থিতিতে জাপান সরকারকে মুদ্রা বাজারে ডলার বিক্রি করে ইয়েন বাঁচাতে দেখা গিয়েছিল।

 

 

ইউরোপ ও এশিয়ার মুদ্রাবাজারেও পতনের ঢেউ লেগেছে। বুধবার ইউরোর দাম ০.০৭ শতাংশ কমে ১.১৭০৫ ডলারে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ০.০৫ শতাংশ কমে ১.৩৫১৩ ডলারে নেমেছে। এমইউএফজি গ্লোবাল মার্কেটের গবেষণা প্রধান ডেরেক হ্যালপেনি সতর্ক করেছেন যে, তেলের দাম ১১০ ডলারের উপরে থাকা মানেই ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত তৈরি হওয়া।

 

 

আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ফেডের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো টেক জায়ান্টদের আয়ের প্রতিবেদন এবং বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতি ঘোষণা। সব মিলিয়ে এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বৈশ্বিক অর্থনীতি।