ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইরানের অর্থপাচার জালে বিশ্বসেরা পাঁচ ব্যাংক: কাঠগড়ায় এইচএসবিসি-সিটিব্যাংক

ছবি : রয়টার্স

 

বিশ্বের প্রভাবশালী ও শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ইরানের বিতর্কিত ও বিশাল অংকের অর্থপাচার পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, জেপি মরগান চেজ, সিটিব্যাংক এবং ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন—এই পাঁচটি ব্যাংককে তাদের লেনদেনের যাবতীয় নথি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন একজন বিচারক।

 

 

অভিযোগ উঠেছে, এই ব্যাংকগুলো ব্যবহার করেই ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

 

 

তদন্তকারীদের মতে, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের (কেএফএইচ) তুরস্কভিত্তিক শাখা ‘কুভেইত তুর্ক’ একটি পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছে। তারা বিভিন্ন ‘ফ্রন্ট কোম্পানি’ বা ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ইরানের সাথে তাদের ব্যবসায়িক যোগসূত্র গোপন রেখেছিল।

 

এই ছদ্মবেশী চক্রটি উল্লিখিত শীর্ষ ব্যাংকগুলোকে ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ডলারে লেনদেন পরিচালনা করত। একটি সুনির্দিষ্ট লেনদেনের তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় ৫.৭ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি’র সাথে সংশ্লিষ্ট, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের কঠোর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

 

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোতে হওয়া কিছু লেনদেন সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অর্থ পাচার করা হয়েছে ‘খাতাম আল-আনবিয়া কনস্ট্রাকশন’ এবং ‘আরভান্দ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি’র জন্য। এই সরঞ্জামগুলো মূলত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে ব্যবহৃত হয়, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

যদিও ব্যাংকগুলো দাবি করেছে তারা ‘অজান্তেই’ এই লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করেছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখন বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

 

 

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় ইরানি ব্যবসায়ী দেলারাম জাভারেই ও কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে। জাভারেই অভিযোগ করেছেন, ইরান সরকার তার সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্র করেছে এবং কেএফএইচের সহায়তায় তার কোম্পানি থেকে কোটি কোটি ডলারের সরঞ্জাম হাতিয়ে নিয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বড় ব্যাংকগুলো সাধারণত কঠোর নিয়ম মেনে চললেও পাচারকারীদের জটিল কৌশলের কারণে তারা অজান্তেই এই অপরাধের অংশীদার হয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইরানের অর্থপাচার জালে বিশ্বসেরা পাঁচ ব্যাংক: কাঠগড়ায় এইচএসবিসি-সিটিব্যাংক

Update Time : ০১:২৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

বিশ্বের প্রভাবশালী ও শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ইরানের বিতর্কিত ও বিশাল অংকের অর্থপাচার পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, জেপি মরগান চেজ, সিটিব্যাংক এবং ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন—এই পাঁচটি ব্যাংককে তাদের লেনদেনের যাবতীয় নথি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন একজন বিচারক।

 

 

অভিযোগ উঠেছে, এই ব্যাংকগুলো ব্যবহার করেই ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

 

 

তদন্তকারীদের মতে, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের (কেএফএইচ) তুরস্কভিত্তিক শাখা ‘কুভেইত তুর্ক’ একটি পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছে। তারা বিভিন্ন ‘ফ্রন্ট কোম্পানি’ বা ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ইরানের সাথে তাদের ব্যবসায়িক যোগসূত্র গোপন রেখেছিল।

 

এই ছদ্মবেশী চক্রটি উল্লিখিত শীর্ষ ব্যাংকগুলোকে ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ডলারে লেনদেন পরিচালনা করত। একটি সুনির্দিষ্ট লেনদেনের তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় ৫.৭ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি’র সাথে সংশ্লিষ্ট, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের কঠোর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

 

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোতে হওয়া কিছু লেনদেন সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অর্থ পাচার করা হয়েছে ‘খাতাম আল-আনবিয়া কনস্ট্রাকশন’ এবং ‘আরভান্দ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি’র জন্য। এই সরঞ্জামগুলো মূলত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে ব্যবহৃত হয়, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

যদিও ব্যাংকগুলো দাবি করেছে তারা ‘অজান্তেই’ এই লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করেছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখন বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

 

 

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় ইরানি ব্যবসায়ী দেলারাম জাভারেই ও কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে। জাভারেই অভিযোগ করেছেন, ইরান সরকার তার সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্র করেছে এবং কেএফএইচের সহায়তায় তার কোম্পানি থেকে কোটি কোটি ডলারের সরঞ্জাম হাতিয়ে নিয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বড় ব্যাংকগুলো সাধারণত কঠোর নিয়ম মেনে চললেও পাচারকারীদের জটিল কৌশলের কারণে তারা অজান্তেই এই অপরাধের অংশীদার হয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।