চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। বুধবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-তে কোপেনহেগেনকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষ আটে জায়গা করে নিয়েছে হানসি ফ্লিকের শিষ্যদের। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে লামিনে ইয়ামাল ও রবার্ট লেভানডভস্কিদের জাদুকরী পারফরম্যান্সে সহজ জয় পায় কাতালানরা। এই জয়ের ফলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করল বার্সা।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ক্যাম্প ন্যু। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় ১৭ বছর বয়সী ভিক্টর ডাডাসনের গোলে এগিয়ে যায় কোপেনহেগেন। বার্সা রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন এই তরুণ। প্রথমার্ধে বার্সেলোনা গোলের একাধিক সুযোগ পেলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতায় ফিরতে পারেনি। বিশেষ করে ৩৩ মিনিটে এরিক গার্সিয়ার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় সমর্থকদের। তবে বিরতির পর কোচ হানসি ফ্লিকের কৌশলী পরিবর্তন ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এরিক গার্সিয়ার বদলে মার্ক বের্নালকে মাঠে নামান ফ্লিক। ৪৮ মিনিটে দানি অলমোর পাস থেকে ইয়ামাল বল বাড়িয়ে দেন লেভানডভস্কিকে, যিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে সমতায় ফেরান। ৬০ মিনিটে ইয়ামাল নিজেই বার্সাকে লিড এনে দেন। ৬৮ মিনিটে লেভানডভস্কি ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সা, যেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি রাফিনিয়া। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে শেষ গোলটি করেন মার্কাস রাশফোর্ড। ৪-১ গোলের বিশাল জয়ে নিশ্চিত হয় শেষ ষোলো।
আক্রমণভাগে গোল উৎসব করলেও বার্সেলোনার রক্ষণভাগ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ থেকেই যাচ্ছে। লিগ পর্বের একটি ম্যাচেও ‘ক্লিনশিট’ রাখতে পারেনি কাতালানরা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, টেবিলের শীর্ষ ১৩টি দলের মধ্যে বার্সেলোনার রক্ষণই ছিল সবচেয়ে নড়বড়ে। নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ে নামার আগে রক্ষণভাগের এই ফাটল মেরামত করাই এখন কোচ হানসি ফ্লিকের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

















