গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৫ মাস। ঠিক এমন সময়ে মাঠের উন্মাদনায় জল ঢেলে দিচ্ছে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক নীতির প্রতিবাদে এবার বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক উঠেছে ইউরোপের দেশগুলোতে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই আসর বর্জনের তালিকায় নাম আসতে শুরু করেছে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। খোদ সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারও এই বয়কট আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
মূল সংকটের শুরু গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে। এই ইস্যুতে সমর্থন না পাওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর ক্রমাগত অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে জার্মানির ফুটবল ফেডারেশনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ওকে গটলিচ সম্প্রতি সে দেশের সরকারের কাছে বিশ্বকাপ বয়কটের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্সও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফরাসি ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, আপাতত তাদের বয়কটের চূড়ান্ত ইচ্ছা না থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তারা সিদ্ধান্ত বদলে বাধ্য হবেন।
বিশ্ব ফুটবলের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বড় মাত্রা যোগ করেছেন সাবেক ফিফা প্রধান সেপ ব্লাটার। দীর্ঘ ১৭ বছর ফিফার শীর্ষ পদে থাকা ব্লাটার এক টুইট বার্তায় বয়কট আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্জনের এই অবস্থানটিই যথাযথ। এছাড়া নেদারল্যান্ডসেও এই আন্দোলন ব্যাপক রূপ নিয়েছে; যেখানে ইতোমধ্যে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ বিশ্বকাপ বয়কটের পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। ফুটবল ও রাজনীতির এই দ্বন্দ্বে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

















