বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিবিসিতে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, দুই দেশের সম্পর্ক এখন আর ‘কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে’ নেই। এই সম্পর্ককে মজবুত করতে হলে উভয় পক্ষকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি একের পর এক ভুল পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্পর্ককে অবনতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে তার ফলাফলও নেতিবাচক হতে বাধ্য।
ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনসহ অন্যান্য মিশনের কর্মকর্তাদের পরিবারকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, ভারত এই ক্ষেত্রে কিছুটা ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ দেখিয়েছে। গত ৪০ বছর ভারতের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আরও সংযত আচরণ আশা করেছিলেন। তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ব্যর্থ—এমন কোনো প্রমাণ নেই। এর পরেও ভারত যদি নিরাপত্তা শঙ্কায় কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। একে দুঃখজনক আখ্যা দিলেও ভারতের সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও কথা বলেন তিনি। তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা এমন কোনো মন্তব্য করবেন না যা এদেশের পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি ভারতের সঙ্গে বৈরিতা তৈরির জন্য নয়। গত সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক খারাপ রেখেছিল, তবে প্রতিবেশী হিসেবে এখন স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে মাত্র।

















