ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইসরায়েলি হামলায় নিশ্চিহ্ন দুই হাজারেরও বেশি পরিবার

গাজায় অভিভাবক হারিয়েছে ৬০ হাজারের বেশি শিশু

ছবি : রয়টার্স

 

ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে গাজা উপত্যকায় সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব মানবীয় বিপর্যয়। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে চলমান হামলায় ইতোমধ্যে ৬০ হাজারের বেশি শিশু তাদের অন্তত একজন অভিভাবককে হারিয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

 

মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বেদনাবিধুর পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় মোট ৬০ হাজার ৭৩৭ জন কোমলমতি শিশু অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এই এতিম শিশুদের মধ্যে ৫২ হাজার ৯৫ জন শিশু তাদের পিতাকে হারিয়েছে, ৫ হাজার ৯২৯ জন শিশু হারিয়েছে গর্ভধারিণী মাতাকে এবং ২ হাজার ৭১৩ জন শিশু পিতা-মাতা উভয়কেই হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও একা হয়ে পড়েছে।

 

 

প্রতিবেদনের আশঙ্কাজনক তথ্যে আরও উঠে এসেছে যে, চলমান ধ্বংসযজ্ঞের ফলে ২ হাজার ২৭৬টি পরিবারের সব সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এসব পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৮৫৮ জন। একটি পরিবারেও কোনো একজন সদস্যও জীবিত না থাকায় তাদের নাম গাজার অফিশিয়াল নাগরিক নিবন্ধন খাতাত বা সিভিল রেজিস্ট্রি থেকেই চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে।

 

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও গাজাজুড়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা থেমে থাকেনি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি সাধারণ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ইসরায়েলি হামলায় নিশ্চিহ্ন দুই হাজারেরও বেশি পরিবার

গাজায় অভিভাবক হারিয়েছে ৬০ হাজারের বেশি শিশু

Update Time : ১১:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে গাজা উপত্যকায় সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব মানবীয় বিপর্যয়। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে চলমান হামলায় ইতোমধ্যে ৬০ হাজারের বেশি শিশু তাদের অন্তত একজন অভিভাবককে হারিয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

 

মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বেদনাবিধুর পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় মোট ৬০ হাজার ৭৩৭ জন কোমলমতি শিশু অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এই এতিম শিশুদের মধ্যে ৫২ হাজার ৯৫ জন শিশু তাদের পিতাকে হারিয়েছে, ৫ হাজার ৯২৯ জন শিশু হারিয়েছে গর্ভধারিণী মাতাকে এবং ২ হাজার ৭১৩ জন শিশু পিতা-মাতা উভয়কেই হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও একা হয়ে পড়েছে।

 

 

প্রতিবেদনের আশঙ্কাজনক তথ্যে আরও উঠে এসেছে যে, চলমান ধ্বংসযজ্ঞের ফলে ২ হাজার ২৭৬টি পরিবারের সব সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এসব পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৮৫৮ জন। একটি পরিবারেও কোনো একজন সদস্যও জীবিত না থাকায় তাদের নাম গাজার অফিশিয়াল নাগরিক নিবন্ধন খাতাত বা সিভিল রেজিস্ট্রি থেকেই চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে।

 

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও গাজাজুড়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা থেমে থাকেনি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি সাধারণ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।