ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তামিম ইকবালের বর্তমান বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, ক্রিকবাজের প্রতিবেদন

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করতে আইসিসিকে বুলবুলের চিঠি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে বর্তমান বিসিবি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইসিসির কাছে ১৪ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ ও সবিস্তার চিঠি পাঠিয়েছেন বুলবুল। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে পুনরায় বিসিবি সভাপতির পদে পুনর্বহাল করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি বর্তমান বিসিবি বোর্ডের জন্য আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া সব ধরনের আর্থিক সহায়তা ও তহবিল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

আইসিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র ক্রিকবাজকে এই চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, “হ্যাঁ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের জন্য আইসিসির বরাদ্দকৃত অর্থায়ন স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন।” বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি ইতিমধ্যে বুলবুলের এই চিঠির বিষয়টি বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। এর জবাবে দেশের ক্রিকেটের বর্তমান অভিভাবক তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদও আইসিসির কাছে নিজেদের আইনি অবস্থান ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে।

 

তবে আইসিসির কাছে ফান্ড বন্ধের এই স্পর্শকাতর আবেদনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জরুরি ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, “একটা খবর দেখলাম যে আমি নাকি আইসিসিকে রিকোয়েস্ট করেছি বাংলাদেশের ফান্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। সেটা কখনোই সম্ভব না এবং সেটা আমার দ্বারা কখনো হয়নি, ঘটেওনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা। আইসিসির কাছে আমি কখনো এমন কোনো রিকোয়েস্ট করবো না, যাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়।”

 

 

ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে, যে নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত শেষে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বুলবুলের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সাথে দেশের ক্রিকেটকে গতিশীল রাখতে সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয় এনএসসি। এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল।

 

 

সেই নির্দেশনা মেনে গত ৭ জুন বিসিবির নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে কাউন্সিলরদের বিপুল ভোটে তামিম ইকবাল আগামী চার বছরের জন্য বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তামিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাবেক বোর্ড সভাপতি বুলবুলের পক্ষ থেকে এই কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইসিসির দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাটি দেশের ক্রিকেট মহলে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

তামিম ইকবালের বর্তমান বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, ক্রিকবাজের প্রতিবেদন

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করতে আইসিসিকে বুলবুলের চিঠি

Update Time : ১০:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে বর্তমান বিসিবি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইসিসির কাছে ১৪ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ ও সবিস্তার চিঠি পাঠিয়েছেন বুলবুল। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে পুনরায় বিসিবি সভাপতির পদে পুনর্বহাল করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি বর্তমান বিসিবি বোর্ডের জন্য আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া সব ধরনের আর্থিক সহায়তা ও তহবিল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

আইসিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র ক্রিকবাজকে এই চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, “হ্যাঁ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের জন্য আইসিসির বরাদ্দকৃত অর্থায়ন স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন।” বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি ইতিমধ্যে বুলবুলের এই চিঠির বিষয়টি বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। এর জবাবে দেশের ক্রিকেটের বর্তমান অভিভাবক তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদও আইসিসির কাছে নিজেদের আইনি অবস্থান ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে।

 

তবে আইসিসির কাছে ফান্ড বন্ধের এই স্পর্শকাতর আবেদনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জরুরি ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, “একটা খবর দেখলাম যে আমি নাকি আইসিসিকে রিকোয়েস্ট করেছি বাংলাদেশের ফান্ডিং বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। সেটা কখনোই সম্ভব না এবং সেটা আমার দ্বারা কখনো হয়নি, ঘটেওনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা। আইসিসির কাছে আমি কখনো এমন কোনো রিকোয়েস্ট করবো না, যাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়।”

 

 

ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে, যে নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত শেষে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বুলবুলের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সাথে দেশের ক্রিকেটকে গতিশীল রাখতে সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয় এনএসসি। এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল।

 

 

সেই নির্দেশনা মেনে গত ৭ জুন বিসিবির নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে কাউন্সিলরদের বিপুল ভোটে তামিম ইকবাল আগামী চার বছরের জন্য বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তামিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাবেক বোর্ড সভাপতি বুলবুলের পক্ষ থেকে এই কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইসিসির দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাটি দেশের ক্রিকেট মহলে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।