ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিষ্ঠুরতার ভিডিও ভাইরাল, আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

ইত্তেফাক কোলাজ

 

নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দি সেতু থেকে একটি নিরীহ কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নির্মমভাবে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অমানবিক ও নিষ্ঠুর এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

 

নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ আলী, সে নরসিংদীর কামারগাঁও এলাকার আবদুর রবের ছেলে। নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং নিখুঁত প্রযুক্তির সহায়তায় নিজ এলাকা থেকেই অভিযুক্ত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

তদন্তে জানা গেছে, গত বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাগরিয়াকান্দি সেতুতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। কুকুরটি মূলত স্থানীয় এক নারী পরম মমতায় লালন-পালন করতেন। ঘটনার দিন কুকুরটি মাটিতে একটি গর্ত করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোহাম্মদ আলী। শাস্তিস্বরূপ সে কুকুরটির গলায় ভারী ইট বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় সেতু থেকে নিচে প্রবহমান নদীতে ফেলে দেয়। এই নির্মমতার পুরো দৃশ্যটি ক্যামেরায় বন্দি করে কে বা কারা ফেসবুকে ছেড়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অবলা প্রাণীর প্রতি এমন বুক কাঁপানো নিষ্ঠুরতা দেখে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রাণী অধিকার কর্মীরা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।

 

 

থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত বাকি সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রাণী কল্যাণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অবলা প্রাণীর ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

নিষ্ঠুরতার ভিডিও ভাইরাল, আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

Update Time : ১০:১১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ইত্তেফাক কোলাজ

 

নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দি সেতু থেকে একটি নিরীহ কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নির্মমভাবে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অমানবিক ও নিষ্ঠুর এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

 

নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ আলী, সে নরসিংদীর কামারগাঁও এলাকার আবদুর রবের ছেলে। নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং নিখুঁত প্রযুক্তির সহায়তায় নিজ এলাকা থেকেই অভিযুক্ত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

তদন্তে জানা গেছে, গত বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাগরিয়াকান্দি সেতুতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। কুকুরটি মূলত স্থানীয় এক নারী পরম মমতায় লালন-পালন করতেন। ঘটনার দিন কুকুরটি মাটিতে একটি গর্ত করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোহাম্মদ আলী। শাস্তিস্বরূপ সে কুকুরটির গলায় ভারী ইট বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় সেতু থেকে নিচে প্রবহমান নদীতে ফেলে দেয়। এই নির্মমতার পুরো দৃশ্যটি ক্যামেরায় বন্দি করে কে বা কারা ফেসবুকে ছেড়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অবলা প্রাণীর প্রতি এমন বুক কাঁপানো নিষ্ঠুরতা দেখে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রাণী অধিকার কর্মীরা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।

 

 

থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত বাকি সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রাণী কল্যাণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অবলা প্রাণীর ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে।