ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অস্বাস্থ্যকর চাষপদ্ধতিতে ক্যানসার ও হৃদরোগের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

সস্তার তেলাপিয়া মাছে লুকিয়ে আছে মারাত্মক ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি

আস্ত তেলাপিয়া মাছ ভাজা। ছবি: সংগৃহীত

 

মাছ মানুষের পুষ্টির অন্যতম প্রধান এবং সহজলভ্য উৎস। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ডি ও বি১২, এবং আয়োডিন ও ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ

 

 

। নিয়মিত মাছ খাওয়া হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। তবে বাজারে সব মাছ সব পরিস্থিতিতে সমান নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের পুষ্টিগুণের চেয়েও বড় বিষয় হলো সেটি কীভাবে এবং কী ধরনের পরিবেশে চাষ করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হওয়া মাছ উপকারের চেয়ে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে, যার একটি বড় উদাহরণ বাজারে কম দামে মিলতে থাকা তেলাপিয়া মাছ।

 

 

সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম উপায়ে ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাষ করা তেলাপিয়া মাছ অনেক সময় টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানে ভরপুর থাকে, যা মানবশরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত শেওলা, নোংরা উচ্ছিষ্ট খাবার কিংবা দূষিত বর্জ্য খেয়ে এই মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ‘জার্নাল অফ ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড ইনোভেটিভ রিসার্চ’-এর একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নোংরা ও রাসায়নিকযুক্ত জলাশয়ে চাষ করা তেলাপিয়ার শরীরে আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু জমা হয়। এই ধাতুগুলোর পরিমাণ মানুষের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে, যা দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের গবেষকদের একাংশ এশিয়া থেকে আমদানি করা কিছু তেলাপিয়া মাছের নমুনায় মারাত্মক বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি পেয়েছেন। খামারে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অনেক সময় হাঁস, মুরগি বা শুকরের বর্জ্য খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রোগবালাই ঠেকাতে অত্যধিক পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। ফলে এই মাছ খেলে মানুষের হৃদরোগ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস ও হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে। গবেষকরা আরও সতর্ক করেছেন যে, খামারের তেলাপিয়ার শরীরে প্রাকৃতিক প্রোটিন কম থাকে এবং এতে ‘ডিবুটিলিঙ্ক’ নামক প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও সাধারণ মাছের চেয়ে প্রায় ১১ গুণ বেশি ‘ডাইঅক্সিন’ নামক পরিবেশ দূষণকারী উপাদান জমা হতে পারে, যা তীব্র অ্যালার্জি ও বাতের ব্যথা সৃষ্টি করে। ২০০৮ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, তেলাপিয়ায় থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে তীব্র প্রদাহ ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

 

 

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, ঢালাওভাবে সব তেলাপিয়া মাছ ক্ষতিকর নয়। মূল সমস্যা মাছটিতে নয়, বরং এর অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর চাষপদ্ধতিতে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও তেলাপিয়া খাওয়ার ওপর কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

অস্বাস্থ্যকর চাষপদ্ধতিতে ক্যানসার ও হৃদরোগের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

সস্তার তেলাপিয়া মাছে লুকিয়ে আছে মারাত্মক ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি

Update Time : ০৯:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আস্ত তেলাপিয়া মাছ ভাজা। ছবি: সংগৃহীত

 

মাছ মানুষের পুষ্টির অন্যতম প্রধান এবং সহজলভ্য উৎস। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ডি ও বি১২, এবং আয়োডিন ও ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ

 

 

। নিয়মিত মাছ খাওয়া হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। তবে বাজারে সব মাছ সব পরিস্থিতিতে সমান নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের পুষ্টিগুণের চেয়েও বড় বিষয় হলো সেটি কীভাবে এবং কী ধরনের পরিবেশে চাষ করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হওয়া মাছ উপকারের চেয়ে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে, যার একটি বড় উদাহরণ বাজারে কম দামে মিলতে থাকা তেলাপিয়া মাছ।

 

 

সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম উপায়ে ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাষ করা তেলাপিয়া মাছ অনেক সময় টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানে ভরপুর থাকে, যা মানবশরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত শেওলা, নোংরা উচ্ছিষ্ট খাবার কিংবা দূষিত বর্জ্য খেয়ে এই মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ‘জার্নাল অফ ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড ইনোভেটিভ রিসার্চ’-এর একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নোংরা ও রাসায়নিকযুক্ত জলাশয়ে চাষ করা তেলাপিয়ার শরীরে আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু জমা হয়। এই ধাতুগুলোর পরিমাণ মানুষের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে, যা দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের গবেষকদের একাংশ এশিয়া থেকে আমদানি করা কিছু তেলাপিয়া মাছের নমুনায় মারাত্মক বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি পেয়েছেন। খামারে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অনেক সময় হাঁস, মুরগি বা শুকরের বর্জ্য খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রোগবালাই ঠেকাতে অত্যধিক পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। ফলে এই মাছ খেলে মানুষের হৃদরোগ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস ও হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে। গবেষকরা আরও সতর্ক করেছেন যে, খামারের তেলাপিয়ার শরীরে প্রাকৃতিক প্রোটিন কম থাকে এবং এতে ‘ডিবুটিলিঙ্ক’ নামক প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও সাধারণ মাছের চেয়ে প্রায় ১১ গুণ বেশি ‘ডাইঅক্সিন’ নামক পরিবেশ দূষণকারী উপাদান জমা হতে পারে, যা তীব্র অ্যালার্জি ও বাতের ব্যথা সৃষ্টি করে। ২০০৮ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, তেলাপিয়ায় থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে তীব্র প্রদাহ ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

 

 

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, ঢালাওভাবে সব তেলাপিয়া মাছ ক্ষতিকর নয়। মূল সমস্যা মাছটিতে নয়, বরং এর অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর চাষপদ্ধতিতে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও তেলাপিয়া খাওয়ার ওপর কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।