সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছোট কিংবা বড় বলে বিভাজন হতে পারে না। আইনের দৃষ্টিতে সব ধর্ষণই সমান অপরাধ এবং প্রতিটি ঘটনারই দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
সোমবার (১৫ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলোচনাকালে অপরাধীদের কঠোর বার্তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ধর্ষণ ছোটও নয়, বড়ও নয়—সব অপরাধই সমান। অপরাধী সোহেল রানা হোক আর জিসান হোক, আইনের মুখোমুখি সবাইকে হতেই হবে। আমরা একটির বিচার চাইব আর অন্যটির বিচার চাইব না, এমন বৈষম্যমূলক সংস্কৃতি বর্তমান বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া হবে না।”
অধিবেশনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোধী দলের এক নেতার বক্তব্যের সূত্র টেনে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিরোধী দলের একজন নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে পারবে কি না। অথচ সরকার এ বিষয়ে কী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আমরা বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি। এরপরও যারা জলঘোলা করার চেষ্টা করছেন, তাদের বক্তব্য ধর্ষণের বিরুদ্ধে ছিল নাকি সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা ছিল, তা জনগণই মূল্যায়ন করবে।”
একপর্যায়ে স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত মূল আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানালে, মন্ত্রী দুর্নীতি ও ধর্ষণের তুলনামূলক প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি যুক্তি দেন, “আইনে যেমন উচ্চ বা নিম্ন দুর্নীতি বলে কোনো পৃথক সংজ্ঞা নেই—দুর্নীতি মানেই যেমন দুর্নীতি, ঠিক একইভাবে ধর্ষণের ক্ষেত্রেও ছোট বা বড় বলে কোনো বিভাজন নেই। সব ঘটনাই সমান গুরুত্বের এবং সমান অপরাধ।”
দুদকের কার্যকারিতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একটি সত্যিকারের শক্তিশালী ও স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের লক্ষ্যেই পূর্বের অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হয়নি। বর্তমানে একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে দ্রুত কমিশনকে পুনর্গঠন ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই সংসদে নতুন বিল উত্থাপনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী দুদক আইন প্রণয়ন করা হবে।”
একই সাথে দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, “বিগত সময়ে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচারের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংকিং খাতে যে অবাধ লুটপাট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, সেই অর্থ দিয়ে অন্তত ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হতো।” পাচার হওয়া এই বিপুল অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

অনলাইন ডেস্ক 














