ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পরাজয় না মানলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় সরে দাঁড়াতে হচ্ছে মমতাকে

মমতা শাসনের অবসান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভাঙলেন রাজ্যপাল

সংগৃহীত ছবি

 

পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার অবসান ঘটল। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিশেষ নির্দেশনায় রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে রাজ্যে দীর্ঘ তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটল।

 

রাজ্যপালের সাংবিধানিক পদক্ষেপ বৃহস্পতিবার রাজভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল জানান, ‘ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’ সংবিধানের এই ধারাটি রাজ্যপালকে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার প্রদান করে। মূলত বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠনে অচলাবস্থা কাটতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

পরাজয় বনাম মমতার অবস্থান সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে তৃণমূল কংগ্রেস শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। তবে ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ফলের পুনর্বিবেচনা না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। পরাজয় না মেনে তার এই অনড় অবস্থানে রাজ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল।

 

সংবিধান বনাম ক্ষমতা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুরনো মন্ত্রিসভা নিজে থেকেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় স্বীকার না করলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় তার শাসনের আইনি বৈধতা শেষ হয়ে যায়। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পদত্যাগ না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের গণতান্ত্রিক রীতি ও সাংবিধানিক কাঠামোর অবমাননা করেছেন।

 

পরবর্তী ধাপ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর এখন রাজ্যপাল পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া বিজেপিকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর গুঞ্জন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

পরাজয় না মানলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় সরে দাঁড়াতে হচ্ছে মমতাকে

মমতা শাসনের অবসান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভাঙলেন রাজ্যপাল

Update Time : ১১:৫১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার অবসান ঘটল। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিশেষ নির্দেশনায় রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে রাজ্যে দীর্ঘ তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটল।

 

রাজ্যপালের সাংবিধানিক পদক্ষেপ বৃহস্পতিবার রাজভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল জানান, ‘ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’ সংবিধানের এই ধারাটি রাজ্যপালকে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার প্রদান করে। মূলত বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠনে অচলাবস্থা কাটতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

পরাজয় বনাম মমতার অবস্থান সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে তৃণমূল কংগ্রেস শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। তবে ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ফলের পুনর্বিবেচনা না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। পরাজয় না মেনে তার এই অনড় অবস্থানে রাজ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল।

 

সংবিধান বনাম ক্ষমতা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুরনো মন্ত্রিসভা নিজে থেকেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় স্বীকার না করলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় তার শাসনের আইনি বৈধতা শেষ হয়ে যায়। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পদত্যাগ না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের গণতান্ত্রিক রীতি ও সাংবিধানিক কাঠামোর অবমাননা করেছেন।

 

পরবর্তী ধাপ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর এখন রাজ্যপাল পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া বিজেপিকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর গুঞ্জন।