ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুতে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা থাকছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে আসার বিষয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বক্তব্যের সূত্র ধরে ট্রাম্প বলেন, “যদি জিয়ান্নি বলে থাকে, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই। ওদের খেলতে দিন।”
এর আগে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ফিফা কংগ্রেসে সংস্থাটির প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন, ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নেবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিফা সভাপতি তা সরাসরি নাকচ করে দেন।
চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের মেগা টুর্নামেন্ট। গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। তবে ফিফা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যৌথ বিবৃতির পর সেই জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটল।
এদিকে বৃহস্পতিবারের এই ফিফা কংগ্রেসকে ঘিরে কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয়। টুর্নামেন্টের ২১১ সদস্যের এই সভায় ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, সপ্তাহের শুরুতে ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ এবং তাঁর দুই সহকর্মী কানাডার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দ্বারা ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগ তুলে কানাডা ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, কানাডা সরকার ২০২৪ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কানাডায় প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ইরান দলের বেস ক্যাম্প বা থাকার জায়গা নির্ধারিত হয়েছে অ্যারিজোনার টুসনে। ‘জি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের ভেন্যুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান।

স্পোর্টস ডেস্ক 















