সেঞ্চুরির পর শান্তর উদযাপন। সংগৃহীত ছবি
সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ অলিখিত এক ফাইনাল। সিরিজে ১-১ সমতা থাকায় আজকের জয় মানেই সিরিজ জয়। এমন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের সামনে ২৬৬ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো। দলীয় মাত্র ৩২ রানের মাথায় টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকে টাইগাররা। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ১ রান করে আউট হওয়ার পর সাইফ হাসান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আগের ম্যাচের পারফর্মার সৌম্য সরকারও আজ মাত্র ১৮ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। যখন মনে হচ্ছিল ঘরের মাঠে অল্প রানেই গুটিয়ে যাবে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস।
চতুর্থ উইকেটে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার গড়ে তোলেন ১৬০ রানের মহাকাব্যিক এক জুটি। দীর্ঘ ২০ ইনিংসের সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে শান্ত তুলে নেন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। জেডন লেনেক্সের করা ৪১তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১১৯ বলে ১০৫ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি, যা সাজানো ছিল ৯টি চার ও ২টি দর্শনীয় ছক্কায়। চট্টগ্রামের এই মাঠেই সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত; আজ যেন ফিরে পেলেন নিজের পুরনো ছন্দ।
শান্তর যোগ্য সঙ্গী হিসেবে লিটন দাসও আজ নিজেকে চিনিয়েছেন। ১৯ ইনিংসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওয়ানডেতে ফিফটির দেখা পেলেন এই স্টাইলিশ ওপেনার। লিটন ৯১ বলে ৭৬ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলে দলের ভিত শক্ত করেন। তার এই ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কার মার। লিটন আউট হলেও ইনিংসের শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয়ের অপরাজিত ৩৩ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ২২ রানের ক্যামিওতে লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান তোলে লাল-সবুজের দল।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে উইল ও’রুকি ছিলেন সবচেয়ে সফল, তিনি একাই শিকার করেন ৩টি উইকেট। এখন সিরিজ জয়ের জন্য কিউইদের প্রয়োজন ২৬৬ রান। মিরপুরের পর চট্টগ্রামের স্পিন সহায়ক উইকেটে এই রান ডিফেন্ড করে সিরিজ নিজেদের করার চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশি বোলারদের সামনে।

















