ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে নতুন করে উত্তেজনা ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র

ইসরায়েলের নতুন হুশিয়ারি: দক্ষিণ লেবাননে চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

সংগৃহীত ছবি

 

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এখনো বারুদের গন্ধ মিশে আছে। এরই মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে কঠোর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

 

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু গ্রামের দক্ষিণে এবং এর আশপাশে চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানচিত্র প্রদর্শন করে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ফিরে যাওয়া বা চলাচল করা বর্তমানে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে লিতানি নদী, ওয়াদি সালহানিয়া এবং সালুকি নদী সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সেনাবাহিনী কয়েকটি নির্দিষ্ট গ্রামের নাম উল্লেখ করে জানিয়েছে, বাসিন্দারা যেন কোনোভাবেই নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করার চেষ্টা না করেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা না মানলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার বাসিন্দাদের ওপরই বর্তাবে।

 

 

অন্যদিকে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বেশ কিছু গ্রাম ও শহর আক্ষরিক অর্থেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এক সময়ের জনবহুল শহর ‘বিনতে জেবাইল’, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, সেটি এখন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় চেনা শহরটি এখন অচেনা এক মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে।

 

 

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “লেবানন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা তারা নিজেরা শুরু করেনি।

 

” তিনি আরও জানান, বৈরুত সরকার এখন যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে চাইছে এবং সমগ্র দেশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাতেও লেবানন সরকারের এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন মিলেছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং মানবিক সংকট নিরসনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে নতুন করে উত্তেজনা ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র

ইসরায়েলের নতুন হুশিয়ারি: দক্ষিণ লেবাননে চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ০৫:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এখনো বারুদের গন্ধ মিশে আছে। এরই মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে কঠোর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

 

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু গ্রামের দক্ষিণে এবং এর আশপাশে চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানচিত্র প্রদর্শন করে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ফিরে যাওয়া বা চলাচল করা বর্তমানে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে লিতানি নদী, ওয়াদি সালহানিয়া এবং সালুকি নদী সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সেনাবাহিনী কয়েকটি নির্দিষ্ট গ্রামের নাম উল্লেখ করে জানিয়েছে, বাসিন্দারা যেন কোনোভাবেই নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করার চেষ্টা না করেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা না মানলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার বাসিন্দাদের ওপরই বর্তাবে।

 

 

অন্যদিকে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বেশ কিছু গ্রাম ও শহর আক্ষরিক অর্থেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এক সময়ের জনবহুল শহর ‘বিনতে জেবাইল’, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল, সেটি এখন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় চেনা শহরটি এখন অচেনা এক মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে।

 

 

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “লেবানন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা তারা নিজেরা শুরু করেনি।

 

” তিনি আরও জানান, বৈরুত সরকার এখন যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে চাইছে এবং সমগ্র দেশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাতেও লেবানন সরকারের এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন মিলেছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং মানবিক সংকট নিরসনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।