জয়ের পর নিজেদের মধ্যে হাত মেলাচ্ছেন মিরাজ-হৃদয়। সংগৃহীত ছবি
আজকের দিনটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক অনন্য গৌরবের অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। একদিকে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে মেয়েরা রাজশাহীর মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে জয় তুলে নিয়েছে, অন্যদিকে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে বিধ্বস্ত করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন পুরুষ দল।
প্রথম ম্যাচ হারের পর আজ হারলেই সিরিজ হাতছাড়া হতো স্বাগতিকদের, কিন্তু নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তদের দাপুটে পারফরম্যান্সে ৮৭ বল হাতে রেখেই দাপুটে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। এর ফলে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরল।
মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ২৩ বছর বয়সী স্পিডস্টার নাহিদ রানার গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওপেনার নিক কেলি এক প্রান্ত আগলে রেখে ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও বাকি ব্যাটাররা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। অতিথিদের ৫ জন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করলেও কেলি বাদে কেউই ২০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ‘ফাইফার’। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
রান তাড়া করতে নেমে ১৯৯ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জক ছিল না। গত ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান আজ মাত্র ৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন। প্রায় এক বছর পর দলে ফেরা অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারও (৮) নামের প্রতি বিচার করতে পারেননি। তবে শুরুর সেই চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ১১০ রানের অনবদ্য এক জুটি।
তানজিদ তামিম আজ ছিলেন অতি আক্রমণাত্মক মেজাজে। মাত্র ৫৮ বলে ৭৬ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৪টি নান্দনিক ছক্কা। অন্যদিকে প্রায় ১৩ ইনিংস পর ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান শান্ত।
তবে তীব্র গরমে ক্র্যাম্প করায় ঠিক ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর বাকি পথটুকু নির্বিঘ্নে পাড়ি দেন তাওহিদ হৃদয় (৩০) ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ (৮)। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে জাইডেন লিনক্স ২ উইকেট নিলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই জয়ের ফলে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচটি এখন অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিল।

















