গোর থিয়াগো। সংগৃহীত ছবি
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গোলদাতার তালিকায় আর্লিং হালান্ডের নাম সবার ওপরে থাকাটা ফুটবল বিশ্বে এখন এক চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন প্রতি ম্যাচেই জাল খুঁজে নিচ্ছেন অবলীলায়।
তবে এবারের মৌসুমে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে তালিকার দ্বিতীয় নামটি— ইগোর থিয়াগো। ব্রেন্টফোর্ডের জার্সিতে এই ব্রাজিলিয়ান তরুণ যেভাবে গোল উৎসব করছেন, তাতে ফুটবল বিশ্বে এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তিনি।
২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কেবল ক্লাবের হয়েই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজের আগমণী বার্তা দিয়ে রেখেছেন। গত মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে সেলেসাওদের জার্সিতে অভিষেক হয় থিয়াগোর। সেই ম্যাচে মাত্র ১৯ মিনিট সুযোগ পেলেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেই দেখা পান কাঙ্ক্ষিত গোলের। আর সর্বশেষ এভারটনের বিপক্ষে ২-২ ড্র হওয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগের রক্ষনভাগের জন্য তিনি এখন মূর্তিমান আতঙ্ক।
ইতিহাসের পাতায়ও নাম লিখিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। প্রথম সেলেসাও ফুটবলার হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমে ২০টির বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড এখন তার দখলে। এমন চোখধাঁধাঁ পারফরম্যান্সের পর কার্লো আনচেলোত্তির বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ব্রেন্টফোর্ড কোচ কেইথ অ্যান্ড্রেওস তো তাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলছেন, “থিয়াগো একজন জাত স্ট্রাইকার। সে জানে কখন কোথায় থাকতে হয়। তার লড়াকু মানসিকতা ড্রেসিংরুমের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।”
তবে আজকের এই রঙিন জীবনের পেছনের গল্পটা বড়ই ধূসর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিতৃহারা হওয়া থিয়াগোকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। পরিবারের অন্ন জোগাতে কখনো তাকে তপ্ত রোদে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে হয়েছে, আবার কখনো দুমুঠো ভাতের জন্য রাস্তায় ফেরিওয়ালার কাজ করেছেন। পেশাদার ফুটবলে পা রাখার পরও চোট তাকে বারবার পিছু টেনে ধরেছে। কিন্তু দারিদ্র্য আর শারীরিক যন্ত্রণা কোনোটিই তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি।
একসময়ের সেই রাজমিস্ত্রি আজ পুরো ব্রাজিলকে দেখাচ্ছেন ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের তুরুপের তাস হতে পারেন এই ইগোর থিয়াগো। কোটি কোটি ব্রাজিলিয়ান ভক্ত এখন স্বপ্ন দেখছেন, নেইমার-ভিনিসিউসদের পাশে দাঁড়িয়ে থিয়াগোর গোলগুলোই হয়তো ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোনালী ট্রফিটা এনে দেবে সাম্বার দেশে।

















