শেখ হাসিনা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জিহাদ (১১) নামে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৪ জন আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
তদন্তে দেখা গেছে, মামলার প্রধান বিষয়বস্তু অর্থাৎ ভুক্তভোগী কিশোর জিহাদ আসলে মারা যায়নি, সে জীবিত আছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ, ২০২৬) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক বদিয়ার রহমান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনা ও স্থান নিয়ে চরম ‘তথ্যগত ভুল’ রয়েছে।
তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, কিশোর জিহাদ কেরানীগঞ্জে নয়, বরং হাজারীবাগ এলাকায় জখম হয়েছিল এবং সে বর্তমানে জীবিত। এমনকি খোদ জিহাদ নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে তার জখম হওয়ার কথা স্বীকার করেছে কিন্তু মৃত্যুর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিআরও আবদুল নূর এই অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, এটি একটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগী নিজেই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন যে তিনি জীবিত। মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে আদালত নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ ছিল। এর ফলে গত ৩০ নভেম্বরই মামলার সব আসামিকে অব্যাহতির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা আজ চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলো।
অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
আইনজীবীরা বলছেন, একটি জীবন্ত মানুষকে মৃত দেখিয়ে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় শিক্ষা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করলে প্রকৃত বিচার প্রক্রিয়া যে বাধাগ্রস্ত হয়, এই ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ।


























