ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিরাপত্তাহীনতা ও তেলের তীব্র ঘাটতিতে মালিকদের উদ্বেগ; শঙ্কা বাড়ছে

যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে পেট্রোল পাম্প, চরম জ্বালানি সংকট

ছবি : সংগৃহীত

 

সারাদেশে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট এবং পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

 

অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো থেকে দৈনিক যে পরিমাণ তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন, যা পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। দীর্ঘ সময় বিরতিহীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাম্পে কর্মরত শ্রমিক–কর্মচারীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক পাম্প মালিকই এখন ব্যবসা সচল রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

 

জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে সংগঠনটি জানায়, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন মজুত থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে ‘মব‘ বা জনরোষ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে। ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে তান্ডব চালানোর একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মালিকরা জানান, বর্তমানে পাম্পগুলোতে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

 

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে যে, ডিপো থেকে পাম্পে তেল পরিবহনের সময়ও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পথে ট্যাংকারগুলো লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হলে অচিরেই সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া মালিকদের আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। এমনটি ঘটলে দেশের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ঈদ পরবর্তী যাতায়াত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তাহীনতা ও তেলের তীব্র ঘাটতিতে মালিকদের উদ্বেগ; শঙ্কা বাড়ছে

যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে পেট্রোল পাম্প, চরম জ্বালানি সংকট

Update Time : ০৭:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

সারাদেশে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট এবং পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

 

অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো থেকে দৈনিক যে পরিমাণ তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন, যা পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। দীর্ঘ সময় বিরতিহীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাম্পে কর্মরত শ্রমিক–কর্মচারীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক পাম্প মালিকই এখন ব্যবসা সচল রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

 

জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে সংগঠনটি জানায়, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন মজুত থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে ‘মব‘ বা জনরোষ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে। ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে তান্ডব চালানোর একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মালিকরা জানান, বর্তমানে পাম্পগুলোতে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

 

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে যে, ডিপো থেকে পাম্পে তেল পরিবহনের সময়ও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পথে ট্যাংকারগুলো লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হলে অচিরেই সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া মালিকদের আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। এমনটি ঘটলে দেশের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ঈদ পরবর্তী যাতায়াত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।