ঢাকা , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সরকারের রহস্যজনক নীরবতায় ক্ষোভ; বিচার নিশ্চিতে চরম হুঁশিয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের ৬ দফা দাবি ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

 

ভারতে বাংলাদেশি যুবক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এবং আসামিদের রিমান্ড নিয়ে বাংলাদেশ সরকারেরনিষ্ক্রিয়তারহস্যজনক নীরবতায়তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার (২২ মার্চ) মধ্যরাতে সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।

 

বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়ার পর ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আজ পুনরায় তাদের আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত আসামিদের আরও ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা বা বলিষ্ঠ অবস্থান দেখা যায়নি। সরকারের এই নজিরবিহীন নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা দেশের সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত ও হতাশ করেছে।

 

মঞ্চের নেতারা আরও উল্লেখ করেন, শুরুতে আসামিরা গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টিকে দেশবাসী সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখে উৎসাহিত হয়েছিল এবং তা উদযাপনও করেছিল। কিন্তু গ্রেফতার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে সরকারের কোনো ভূমিকা না থাকা এবং অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে। ইনকিলাব মঞ্চ মনে করে, একজন বাংলাদেশি নাগরিককে বিদেশের মাটিতে নৃশংসভাবে হত্যার পর বিচার নিশ্চিতে সরকারের এমন ঢিলেঢালা ভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

 

ঘোষিত ৬ দফা দাবিতে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করা এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায়, ইনকিলাব মঞ্চ দেশব্যাপী সাধারণ ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই বিচার প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অগ্রগতি দেশবাসীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

নিম্নোক্ত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করছে :

 

. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই মুহূর্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এটি কোনো অনুরোধ নয়, জনগণের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম।

 

. হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের কুশীলবদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

. আসামিরা কীভাবে এবং কাদের মদদে সীমান্ত পাড়ি দিল? গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে থাকা কোন ব্যক্তিরা জড়িত ছিল কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করে অতিদ্রুত নামগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং গ্রেপ্তার করতে হবে।

 

. ভারতেইউএপিএআইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠন করতে হবে। এই সেল ভারতের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং অগ্রগতি জাতিকে অবহিত করবে। এই আইনি সেলের মাধ্যমেই ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে আইনি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

. ওসমান হাদি হত্যার বিচার কোনো বদ্ধ ঘরে বা গোপন ট্রায়ালে হবে না। আমরা দাবি করছি, এটি হবে একটিওপেন ট্রায়াল সিস্টেম‘, যা জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। জাতি এই বিচারের স্বচ্ছতা দেখতে চায়, সরাসরি দেখতে চায়।

 

. আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে, ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস করতে জানে না।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের রহস্যজনক নীরবতায় ক্ষোভ; বিচার নিশ্চিতে চরম হুঁশিয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের ৬ দফা দাবি ঘোষণা

Update Time : ০৬:৫১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ভারতে বাংলাদেশি যুবক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এবং আসামিদের রিমান্ড নিয়ে বাংলাদেশ সরকারেরনিষ্ক্রিয়তারহস্যজনক নীরবতায়তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার (২২ মার্চ) মধ্যরাতে সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।

 

বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়ার পর ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আজ পুনরায় তাদের আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত আসামিদের আরও ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা বা বলিষ্ঠ অবস্থান দেখা যায়নি। সরকারের এই নজিরবিহীন নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা দেশের সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত ও হতাশ করেছে।

 

মঞ্চের নেতারা আরও উল্লেখ করেন, শুরুতে আসামিরা গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টিকে দেশবাসী সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখে উৎসাহিত হয়েছিল এবং তা উদযাপনও করেছিল। কিন্তু গ্রেফতার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে সরকারের কোনো ভূমিকা না থাকা এবং অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে। ইনকিলাব মঞ্চ মনে করে, একজন বাংলাদেশি নাগরিককে বিদেশের মাটিতে নৃশংসভাবে হত্যার পর বিচার নিশ্চিতে সরকারের এমন ঢিলেঢালা ভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

 

ঘোষিত ৬ দফা দাবিতে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করা এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায়, ইনকিলাব মঞ্চ দেশব্যাপী সাধারণ ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই বিচার প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অগ্রগতি দেশবাসীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

নিম্নোক্ত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করছে :

 

. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই মুহূর্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এটি কোনো অনুরোধ নয়, জনগণের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম।

 

. হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের কুশীলবদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

. আসামিরা কীভাবে এবং কাদের মদদে সীমান্ত পাড়ি দিল? গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে থাকা কোন ব্যক্তিরা জড়িত ছিল কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করে অতিদ্রুত নামগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং গ্রেপ্তার করতে হবে।

 

. ভারতেইউএপিএআইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠন করতে হবে। এই সেল ভারতের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং অগ্রগতি জাতিকে অবহিত করবে। এই আইনি সেলের মাধ্যমেই ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে আইনি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

. ওসমান হাদি হত্যার বিচার কোনো বদ্ধ ঘরে বা গোপন ট্রায়ালে হবে না। আমরা দাবি করছি, এটি হবে একটিওপেন ট্রায়াল সিস্টেম‘, যা জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। জাতি এই বিচারের স্বচ্ছতা দেখতে চায়, সরাসরি দেখতে চায়।

 

. আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে, ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস করতে জানে না।