ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড কিং শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নিয়ে যখন দেশজুড়ে তুলকালাম চলছে, ঠিক তখনই অনেকটা গোপনেই দেশ ছেড়েছেন এই অভিনেতা। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। জানা গেছে, ‘রকস্টার’ নামের নতুন একটি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতেই তাঁর এই বিদেশ পাড়ি। তবে ঈদের মতো বড় উৎসবে নিজের ছবি মুক্তির দিনে এভাবে প্রচার–প্রচারণা ফেলে রেখে চলে যাওয়াকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না সাধারণ দর্শক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
এবারের ঈদে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি নিয়ে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন হল মালিকরা। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সার্ভার জটিলতার কারণে অর্ধেকেরও বেশি হলে প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা নিয়ে অনেক জায়গায় বিক্ষুব্ধ দর্শকরা হল ভাঙচুর পর্যন্ত করেছেন। এর ওপর যুক্ত হয়েছে দর্শকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির দুর্বল নির্মাণশৈলী নিয়ে ক্রমাগত সমালোচনা ধেয়ে আসছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ছবির প্রধান নায়ক হিসেবে মাঠ পর্যায়ে থেকে দর্শকদের উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে শাকিবের প্রস্থানকে অনেকেই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করছেন।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, শাকিব খান সম্ভবত আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন যে ‘প্রিন্স’ বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। তাই সিনেমার ব্যর্থতার দায় এড়াতেই তিনি তড়িঘড়ি করে নতুন প্রজেক্টের দোহাই দিয়ে বিদেশে উড়াল দিয়েছেন। সিনেমার প্রচারণায় তাঁর অনুপস্থিতি হল মালিকদের আরও হতাশ করেছে, যাঁরা এই ছবির পেছনে কোটি কোটি টাকা লগ্নি করেছেন। মালয়েশিয়ায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের কথা বলা হলেও কেন ঠিক ঈদের দিনই তাঁকে যেতে হলো, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।
শাকিব খানের মতো একজন শীর্ষ তারকার কাছ থেকে দর্শকরা আরও বেশি পেশাদারিত্ব আশা করেছিলেন। বিশেষ করে যখন হলগুলোতে ভাঙচুর চলছে এবং টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে, তখন তাঁর সরব উপস্থিতি পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে পারত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব ভক্তদের একটি বড় অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সিনেমা ভালো না চললে সেটির দায়ভার নায়ককেও নিতে হবে। এই আকস্মিক বিদেশযাত্রা শাকিবের ক্যারিয়ারে এবং তাঁর পরবর্তী সিনেমাগুলোর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখন বড় সময়ের অপেক্ষা।

বিনোদন ডেস্ক 























