ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ক্রীড়া কূটনীতির ব্যর্থতা ও আইসিসি-বিসিবি জটিলতা খতিয়ে দেখবে মন্ত্রণালয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ: কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি

নানা নাটকীয়তা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একটি বৈশ্বিক আসর থেকে বাংলাদেশের এই সরে দাঁড়ানোর কারণ অনুসন্ধানে এবার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিশ্বকাপ বর্জনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিলেন নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী।

 

ক্রীড়া কূটনীতির ব্যর্থতা ও মুস্তাফিজ ইস্যু

আজ মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমিনুল হক বলেন, “আমরা দেখেছি যে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে বাংলাদেশ সেখানে অংশ নিতে পারেনি। কেন এমনটি হলো, তা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে। আমাদের কোথায় সমস্যা ছিল বা কেন আমরা বৈশ্বিক আসরে পিছিয়ে পড়লাম, তা জানতে আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।”

 

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিসিবি ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন আসিফ নজরুল ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়মিত এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন। বিসিবি আইসিসি-র কাছে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে। তবে আইসিসি ভেন্যু বদল অসম্ভব জানিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দেয়।

 

ক্রিকেটারদের ক্ষোভ ও কোয়াবের অবস্থান

বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হয়। ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) শুরু থেকেই এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে আসছিল। সম্প্রতি কোয়াব সভাপতি মিঠুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, “কোয়াবের প্রতিনিধি দল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, ঈদের পর এই পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যারা এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পেছনে দায়ী, তাদের কাছ থেকে অবশ্যই জবাবদিহি চাওয়া হবে।”

 

বর্তমানে বিসিবি এই তদন্ত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিলেও মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানে অনড়। ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ক্রীড়া কূটনীতির এই সংকটে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হলো, তার দায় আসলে কার?

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়া কূটনীতির ব্যর্থতা ও আইসিসি-বিসিবি জটিলতা খতিয়ে দেখবে মন্ত্রণালয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ: কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি

Update Time : ০৬:৫০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নানা নাটকীয়তা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একটি বৈশ্বিক আসর থেকে বাংলাদেশের এই সরে দাঁড়ানোর কারণ অনুসন্ধানে এবার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিশ্বকাপ বর্জনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিলেন নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী।

 

ক্রীড়া কূটনীতির ব্যর্থতা ও মুস্তাফিজ ইস্যু

আজ মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমিনুল হক বলেন, “আমরা দেখেছি যে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে বাংলাদেশ সেখানে অংশ নিতে পারেনি। কেন এমনটি হলো, তা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে। আমাদের কোথায় সমস্যা ছিল বা কেন আমরা বৈশ্বিক আসরে পিছিয়ে পড়লাম, তা জানতে আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।”

 

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিসিবি ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন আসিফ নজরুল ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়মিত এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন। বিসিবি আইসিসি-র কাছে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে। তবে আইসিসি ভেন্যু বদল অসম্ভব জানিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দেয়।

 

ক্রিকেটারদের ক্ষোভ ও কোয়াবের অবস্থান

বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হয়। ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) শুরু থেকেই এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে আসছিল। সম্প্রতি কোয়াব সভাপতি মিঠুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, “কোয়াবের প্রতিনিধি দল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, ঈদের পর এই পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যারা এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পেছনে দায়ী, তাদের কাছ থেকে অবশ্যই জবাবদিহি চাওয়া হবে।”

 

বর্তমানে বিসিবি এই তদন্ত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিলেও মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানে অনড়। ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ক্রীড়া কূটনীতির এই সংকটে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হলো, তার দায় আসলে কার?