ছবি : রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার পথ আপাতত রুদ্ধ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কাতার। সোমবার (১৬ মার্চ) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, ইরান হামলা বন্ধ না করলে কোনো ধরনের আলোচনা বা মধ্যস্থতা সম্ভব নয়। তেহরানের পক্ষ থেকে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার তদন্তে কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসলেও কাতার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ‘তারা যদি হামলা বন্ধ করে, তবেই আমরা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পেতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের দেশগুলো সরাসরি হামলার শিকার হচ্ছে, ততক্ষণ কমিটি গঠনের সময় নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, এখন সময় হলো নিজেদের দেশকে রক্ষা করার জন্য নীতিগতভাবে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং তেহরানকে অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করা।
উল্লেখ্য, সপ্তাহান্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কাতার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুমকি ও আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। আল-আনসারি অভিযোগ করেন, শনিবার যে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়েছে, তা দোহার একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার দিকে ছোড়া হয়েছিল।
কাতার সরকার জানায়, ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুনির্দিষ্ট সতর্কতা—যেখানে নির্দিষ্ট কোম্পানি ও ভৌগোলিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়েছিল—তার ভিত্তিতেই তারা দোহায় জরুরি ভিত্তিতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ওই সরিয়ে নেওয়া অঞ্চলের মধ্যে গুগল, আমেরিকান এক্সপ্রেস ও মাইক্রোসফটের মতো বড় মার্কিন কোম্পানিগুলোর কার্যালয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আল-আনসারি স্পষ্ট করেন যে, কাতার আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে, তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা দোহা পরিচালনা করছে না। হামলার হুমকি বজায় রেখে আলোচনার কোনো পরিবেশ নেই বলেও তিনি পুনরায় সতর্ক করেন।

















