ছবি : সংগৃহীত
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আবারও বাঘের গর্জন। রোমাঞ্চে ঠাসা সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে ২–১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। লড়াকু ২৯১ রানের পুঁজি নিয়ে তাসকিন আহমেদের বিধ্বংসী বোলিং ও তরুণ তুর্কি তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক সেঞ্চুরিতে ভর করে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয়বার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের নজির গড়ল লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে ২০১৫ সালে সবশেষ দেখায় পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।
রবিবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা স্বপ্নের মতো পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। সাইফ ৩৬ রান করে বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন তানজিদ। মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি করা এই তরুণ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৮ বলে। ১০৭ বলে ১০৭ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলে তিনি যখন আউট হন, ততক্ষণে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়ে গেছে। মাঝে নাজমুল হোসেন শান্ত (২৭) ও লিটন দাসের (৪১) ছোট ছোট অবদান এবং শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ তিনটি উইকেট নেন।
২৯১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসারদের আগুনের গোলার সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ফেরান সাহিবজাদা ফারহানকে। পরের ওভারে গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে তাসকিন যখন অধিনায়ক রিজওয়ানকে ৪ রানে সাজঘরে ফেরান, তখন মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে পাকিস্তান। মিডল অর্ডারে গাজি ঘুরি (২৯) ও আব্দুল সামাদ (৩৪) লড়াইয়ের আভাস দিলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১০০ রানের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান সালমান আলি আগা।
অভিষিক্ত সাদ মাসুদকে (৩৮) নিয়ে ৭৯ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন সালমান। তবে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সাদ বোল্ড হলে আবারও চাপে পড়ে সফরকারীরা। এরপর একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান আগা। দারুণ এক শতক হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল। ৪৭তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে ১০৬ রানে সালমান আউট হলে গ্যালারিতে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩টি ছক্কা মেরে ম্যাচটি শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে গেলেও জয় ধরা দেয়নি। ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে চার উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক তাসকিন আহমেদ। এছাড়া মুস্তাফিজ ৩টি ও নাহিদ রানা ২ উইকেট শিকার করেন। এই জয় কেবল সিরিজের নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের আধিপত্যের এক নতুন বারতা দিয়ে গেল।

স্পোর্টস ডেস্ক 















