হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া। ছবি : রয়টার্স
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। বুধবার (১১ মার্চ) লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তজনা ছাপিয়ে বৈরুতের মূল শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে এই আক্রমণ লেবানন পরিস্থিতির চরম অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দক্ষিণ উপশহরের ওপর দিয়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই হামলায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে হামলা চালানোর আগে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তবে অত্যন্ত জনবহুল এই এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
লেবাননের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার ভোরে দক্ষিণ উপশহরের পাশাপাশি বৈরুতের কেন্দ্রস্থলের একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলা চালানো হয়। ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণে অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য অবস্থানগুলোকে চিহ্নিত করে এই আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, লেবানন সরকার এই আক্রমণকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাজধানী বৈরুতের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত লেবাননকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের লেবানন ত্যাগের পরামর্শ দিচ্ছে। বৈরুতের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত এই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

















