ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কাতার-বাহরাইনসহ ৫ দেশে বিস্ফোরণ; চরম ঝুঁকিতে ৪০ হাজার সেনা।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০১ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন

 

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে তেহরান।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে।

 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও এএফপি জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদর দপ্তরে বেশ কয়েকটি মিসাইল আঘাত হেনেছে। এছাড়া কাতারের আল-উদেয়িদ এয়ার বেস, কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু মিসাইল রুখে দিলেও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আবুধাবিতে একজন এশীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার সামরিক ও বেসামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ (USS Abraham Lincoln ও USS Gerald R. Ford) কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকশ যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে। এর আগে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকেই এই ঘাঁটিগুলো তেহরানের নিশানায় ছিল। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল যে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো দেশ থেকে হামলা চালানো হলে সেই দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি এবং আজকের সরাসরি হামলার প্রতিবাদে এই ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযান চালানো হয়েছে। জর্ডান ও ইরাক সীমান্ত দিয়েও বেশ কিছু ড্রোন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার, কুয়েত ও ইরাক তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত এখনই না থামলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতার-বাহরাইনসহ ৫ দেশে বিস্ফোরণ; চরম ঝুঁকিতে ৪০ হাজার সেনা।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলা

Update Time : ০৯:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন

 

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে তেহরান।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে।

 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও এএফপি জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদর দপ্তরে বেশ কয়েকটি মিসাইল আঘাত হেনেছে। এছাড়া কাতারের আল-উদেয়িদ এয়ার বেস, কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু মিসাইল রুখে দিলেও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আবুধাবিতে একজন এশীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার সামরিক ও বেসামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ (USS Abraham Lincoln ও USS Gerald R. Ford) কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকশ যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে। এর আগে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকেই এই ঘাঁটিগুলো তেহরানের নিশানায় ছিল। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল যে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো দেশ থেকে হামলা চালানো হলে সেই দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি এবং আজকের সরাসরি হামলার প্রতিবাদে এই ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযান চালানো হয়েছে। জর্ডান ও ইরাক সীমান্ত দিয়েও বেশ কিছু ড্রোন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার, কুয়েত ও ইরাক তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত এখনই না থামলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।