ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
বৈশ্বিক বিনিয়োগ সংস্থা ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানের তেল সরবরাহে সামান্যতম ব্যাঘাত ঘটলে অপরিশোধিত বা ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
বর্তমানে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করে, যা বিশ্ববাজারের মোট চাহিদার প্রায় ৩ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে মাত্র ১ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিলেই দাম ৩ থেকে ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৃদ্ধির হার ৯ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যদি তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় বা জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে তেলের দাম ১০০ ডলারের গণ্ডি অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে।
এবিপি লাইভ ও গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি না হওয়ায় বাজার আগে থেকেই অস্থিতিশীল ছিল। এখন নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় বীমা ও পরিবহন খরচ (Freight cost) বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত হওয়ায় এই রুটে যেকোনো ঝুঁকি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, ইরান সরাসরি প্রণালি বন্ধ না করলেও সীমিত নৌ-চলাচল বা হয়রানির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তেলের দাম এভাবে বৃদ্ধি পেলে শুধু পরিবহন নয়, বরং খাদ্য, পোশাক ও রাসায়নিক পণ্যের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করবে। যদিও ইরান অতীতে বহুবার এই পথ বন্ধের হুমকি দিয়েও কার্যকর করেনি, তবে বর্তমানের সরাসরি সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক 















